Published : 22 Oct 2025, 05:23 PM
শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন ক্রিজে গেলেন কাগিসো রাবাদা, দক্ষিণ আফ্রিকা তখন লিড গোনার শঙ্কায়। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবেই যখন তিনি আউট হলেন, দল তখন অভাবীয়ভাবে পেয়ে গেছে বড় লিড। তার নাম ততক্ষণে খোদাই হয়ে গেছে প্রোটিয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে।
রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের তৃতীয় দিনে বুধবার পাকিস্তানি বোলিং গুঁড়িয়ে রেকর্ড গড়েছেন রাবাদা। ১১ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে চারটি করে ছক্কা ও চারে ৬১ বলে করেছেন তিনি ৭১ রান।
টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার সুদীর্ঘ ইতিহাসে ১১ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ ইনিংস এটিই। রাবাদার ব্যটে অতীত হয়ে গেছে গত ১১৯ বছরের বেশ সময় ধরে টিকে থাকা রেকর্ড। সেই ১৯০৬ সালের মার্চে কেপ টাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন বার্ট ভোগলার। এতগুলো বছর পর অবশেষে তাকে ছাড়াতে পারলেন কেউ।
রাবাদার আগে পাকিস্তানকে যথেষ্ট যন্ত্রণা দেন ১০ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা কেশাভ মহারাজও। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ৩৩৩ রানের জবাবে এক পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ছিল ৮ উইকেটে ২৩৫। সেখান থেকে নবম উইকেটে সেনুরান মুথুসামি ও কেশাভ মহারাজ গড়েন ৭১ রানের জুটি। মহারাজ আউট হন ৩০ রানে।
এরপর শেষ জুটিতে পাকিস্তানকে হতাশার সাগরে ডুবিয়ে ৯৮ রানের জুটি গড়েন মুথুসামি ও রাবাদা। শেষ জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার চতুর্থ সেরা বন্ধন এটি।
২০১০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেই শেষ উইকেটে ১০৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স ও মর্নে মর্কেল। ১৯২৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষ হেডিংলিতে শেষ জুটিতে ১০৩ রান যোগ করেছিলেন টাপি ওয়েন-স্মিথ ও স্যান্ডি বেল। ইংলিশদের বিপক্ষেই ২০২০ সালে গেবেখায় ৯৯ রানের জুটি হয় কেশাভ মহারাজ ও ডেন প্যাটারসনের।
এবার মুথুসামি ও রাবাদার জুটি শতরানের কাছে গিয়ে থামে রাবাদার বিদায়ে। তাতে মুথুসামির শতরানের স্বপ্নও শেষ হয়ে যায় আপাতত। টেস্ট ক্রিকেটে দ্বিতীয় ফিফটিতে ৮৯ রানে অপরাজিত রয়ে যান এই স্পিনিং অলরাউন্ডার।
রাবাদাকে ফিরিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে শেষ করেন অভিষিক্ত আসিফ আফ্রিদি। ৩৮ বছর ২৯৯ দিন বয়সে টেস্ট খেলতে নামা এই বাঁহাতি স্পিনার এই টেস্ট ইতিহাসে অভিষেকে সবচেয়ে বেশি বয়সে ৫ উইকেট শিকারি স্পিনার।
আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ১৯৩৩ সালে চার্লস ম্যারিয়ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওভালে ৩৭ বছর ৩৩২ দিন বয়সে টেস্ট খেলতে নেমে ইংলিশ লেগ স্পিনার প্রথম ইনিংসে শিকার করেছিলেন ৫ উইকেট, পরের ইনিংসে ৬টি।