ঢাবিতে যৌন হয়রানি: বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের ঘোষণা

সকালে বিভাগের ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা; অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Feb 2024, 09:54 AM
Updated : 11 Feb 2024, 09:54 AM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।

সেইসঙ্গে অভিযোগের তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে না ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিভাগের বারান্দায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন ১৩ থেকে ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর ২টায় অপরাজেয় বাংলার সামনে মানববন্ধনও করেন তারা।

বিক্ষোভ থেকে শিক্ষক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। তারা তিনটি দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হল- নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা; দ্রুত অপরাধারীকে শাস্তির আওতায় আনা; তদন্ত চলাকালে বা অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে শিক্ষক নাদির জুনাইদকে বিরত রাখা।

নম্বর কম দেওয়া নিয়ে স্নাতকোত্তরের একটি ব্যাচের বেশকিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগের মধ্যে অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন বিভাগের এক শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিয়ে শনিবার দুপুরে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সঙ্গে কিছু অডিও রেকর্ড ও মেসেজের স্ক্রিনশটও জমা দেন তিনি।

২০২২ সালে কোভিডকালীন বিধিনিষেধ ওঠার পর সশরীরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হলে নাদির জুনাইদ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে তুলে ধরেন ওই শিক্ষার্থী। মোবাইল ফোনে, মেসেঞ্জারে ও সাক্ষাতে তার সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা বলার চেষ্টা ছাড়াও অশোভন নানা ইঙ্গিতও পাওয়ার কথাও অভিযোগে বলেছেন তিনি।

ওই শিক্ষার্থীর দাবি, অনেক বলার পর তিনি নাদির জুনাইদের জন্মদিনে তার বাসায় গিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই শিক্ষকের কাছাকাছি আসার চেষ্টার অভিযোগও তুলে ধরেছেন প্রক্টরের কাছে জমা দেওয়া আবেদনে।

যদিও অধ্যাপক জুনাইদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এর পেছনে অন্য কিছু দেখছেন। বিভাগের পরবর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার আগে ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করে রোববারের বিক্ষোভে বিভাগের শিক্ষার্থী অদনান তূর্য বলেন, “গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা সব ধরনের যৌন সহিংসতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বিভাগের অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আজ থেকে সকল একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করছি।”

আজরা হুমায়রা নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “সাংবাদিকতা বিভাগকে আমরা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সুরক্ষিত একটি বিভাগ হিসেবে নিশ্চিত করতে চাই। বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ মানা যায় না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরব না।

“নাদির জুনাইদের নিপীড়নের বিষয়টা ডিপার্টমেন্টে ওপেন সিক্রেটের মত ছিল। তিনি প্রত্যেকটা ব্যাচ থেকে কয়েকজন করে নারী শিক্ষার্থীকে টার্গেট করেন। এরপর তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে হ্যারেজ করেন। আমরা এই নোংরা খেলা থেকে মুক্তি চাই।”

এদিকে রোববার দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উপাচার্য বরাবরও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, “অভিযোগপত্রের সঙ্গে একটি পেনড্রাইভও পেয়েছি৷”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।