চুয়েট: ‘পদত্যাগ করলে খুলবে তালা’, অবরুদ্ধ উপাচার্যকে আল্টিমেটাম
উপাচার্য ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে চারপাশ এখনো ঘিরে রেখেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
পদত্যাগ করলে উপাচার্য ভবনের তালা খুলে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সুযোগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
যতক্ষণ পদত্যাগ না করবেন ততক্ষণ অধ্যাপক শেখ শরীফুলকে অবরুদ্ধ রাখা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে তারা।
সোমবার রাত ৮টায় শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমের সামনে তাদের এই দাবি তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষে একজন আন্দোলনকারী লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা অবগত আছেন, নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে মদুনাঘাট ও চান্দগাঁও টার্মিনালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাসে ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী এই ব্যক্তিকে আমরা আর কোনভাবেই উপাচার্য হিসেবে বিবেচনা করছি না।
“তথাকথিত উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম আজ ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। তিনি আমাদের কাছে একজন সম্পূর্ণ অবৈধ অনু্প্রবেশকারী এবং ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় হুমকি। এই অনুপ্রবেশকারী ও তার সহযোগীদের দুপুর ১২টার মধ্যে ভিসি ভবন ত্যাগের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটি অমান্য করে ভেতরে অবস্থান করায় আমরা বাধ্য হয়ে ভিসিভবন তালা বদ্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি।”
নিজেদের সাধারণ শিক্ষার্থী দাবি করে ওই আন্দোলনকারী বলেন, “আমাদের যৌক্তিক অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি। আমরা সংঘাত চাই না বা মানবাধিকার লঙ্ঘনেও বিশ্বাসী নই। কাউকে ভবনে অবরুদ্ধ করে অত্যাচার করাও আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
“তাই আজ দেশের সকল গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে প্রমাণ হিসেবে আমরা শরীফুল আলমকে নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার একটি চূড়ান্ত সুযোগ দিচ্ছি; যাতে পরবর্তীতে কেউ আমাদের বিরুদ্ধে কোন মিথ্যা অপপ্রচার চালাতে না পারে। আমাদের প্রস্তাব স্পষ্ট। শরীফুল আলম যদি এই মুহূর্তে তার পদত্যাগ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেন অথবা আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তবে এখনই ভবনের তালা খুলে, তাকে ও তার ক্যাডারদের নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সুযোগ দেব।
“কিন্তু যদি পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে আমাদের এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ সায়েম স্যারকে (অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম) উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তিনি ভেতরেই অবরুদ্ধ থাকবেন। গণমাধ্যমের সামনে আমরা তাকে নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ দিচ্ছি। এটি প্রত্যাখান করলে নিজেই প্রমাণ করবেন যে, তিনি স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ থাকতে চান। এরপর উদ্ভূত যে কোন পরিস্থিতির জন্য তিনি নিজেই সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকবেন।”
ওই ঘোষণার পর প্রায় ৪০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বা তার সঙ্গে ভবনের ভিতর অবরুদ্ধদের কাউকে নিচে দেখা যায়নি। ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে চারপাশ এখনো ঘিরে রেখেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
যোগদানের ১৭ দিন পর সোমবার দুপুরে কার্যালয়ে এসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্য ভবনের মূল ফটকে তালা দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারপর থেকে ওই ভবনেই আটকে আছেন তিনি।
তালা দেওয়ার পাশাপাশি ভবনটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে রেখেছে আন্দোলনকারীরা। ফলে সন্ধ্যার পর ভবনটি অন্ধকার হয়ে পড়ে। ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের সঙ্গে চুয়েট ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাসহ মোট ১০-১২ জন অবরুদ্ধ আছেন।
বিকেলে ভবনের নিচে তালা দেওয়া গেইটে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে এতে শিক্ষার্থীরা সাড়া দেয়নি। উল্টো তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন ছাত্ররা। কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করে আবার নিজের রুমে ফিরে যান উপাচার্য।
