১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

যোগদানের ১৭ দিন পর কার্যালয়ে চুয়েট ভিসি, তালা খুলল কে?

সোমবার অফিস সময় শুরু হওয়ার আগেই ছাত্রদলের সাবেক-বর্তমান কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে যান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

যোগদানের ১৭ দিন পর কার্যালয়ে চুয়েট ভিসি, তালা খুলল কে?

চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Oct 2026, 11:31 AM

Updated : 12 Oct 2026, 11:34 AM

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) যোগদানের ১৭ দিন পর নিজের কার্যালয়ে গেলেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

সোমবার অফিস সময় শুরু হওয়ার আগেই ছাত্রদলের সাবেক-বর্তমান কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কার্যালয়ে যান। এসময় চুয়েটের মূল ফটক খোলা ছিল বলে তার দাবি।

তবে প্রশাসনিক ভবনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ছিল। তাদের দাবি, নতুন উপাচার্য সেই তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। আর উপাচার্য বলছেন, তালা ‘শিক্ষার্থীরাই’ খুলে ফেলেছে।

অধ্যাপক শরীফুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমি ক্যাম্পাসে এসেছি। ভিসি কার্যালয়ে অফিস করছি। বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও দপ্তর প্রধানদের আমন্ত্রণ করেছি। তাদের সাথে বসে করণীয় ঠিক করব।"

প্রবেশের সময় তালা ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি অফিস সময়ের অনেক আগেই এসেছি। তখন ক্যাম্পাসের মূল ফটক খোলা ছিল। প্রশাসনিক ভবনে তালা ছিল। ছাত্ররাই সেটা খুলে ফেলেছে।"

রবি ও সোমবার ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত একটি সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল উপাচার্যের। এ দুদিনের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এভাবে অন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে সোমবার সকালে হঠাৎ চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য।

এসময় ছাত্রদলপন্থি বর্তমান ও সাবেক আট থেকে দশজন শিক্ষার্থীও তার সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে  চুয়েট শাখা ছাত্রদল সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "উপাচার্য ক্যাম্পাসে এসেছেন জানতে পেরে আমরা শিক্ষার্থীরা উনার সাথে দেখা করতে যাই। আমরা প্রথমে শিক্ষার্থী তারপর ছাত্রদলের নেতা।"

প্রশাসনিক ভবনের তালা ভাঙার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "প্রশাসনিক ভবনের কর্মচারীরা তালা খুলেছেন। আমরা অনেক পরে উপাচার্যের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। "

চুয়েট শাখা ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইনসহ ১০-১৫ জন উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন।

দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

পাশাপাশি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। এর মধ্যেই ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে যোগদান করেন নতুন উপাচার্য। তখন থেকে তিনি চট্টগ্রাম নগরীতে অবস্থান করছিলেন।