২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি
উপাচার্য বলেন, "গতকাল থেকে ভবনের পানি-বিদ্যুৎসহ সব ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধ। এখানে যারা আছেন, তাদের বেশিরভাগই অসুস্থ বোধ করছেন।”
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ১১ জন ২১ ঘণ্টা ধরে উপাচার্যের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।
ওই ভবনে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় তালা দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তখন ভবনের ভেতরে ছিলেন উপাচার্য, চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা ও চুয়েট এর অ্যালমনাইসহ ১২ জন।
অসুস্থ বোধ করায় তাদের একজনকে রাতে ওই অবরুদ্ধ ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "গতকাল থেকে ভবনের পানি-বিদ্যুৎসহ সব ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধ। এখানে যারা আছেন, তাদের বেশিরভাগই অসুস্থ বোধ করছেন। অনেকের মোবাইল বন্ধ হয়ে গেছে। বাকিদের মোবাইলও কিছুক্ষণ পর বন্ধ হয়ে যাবে।
"যদি পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে না যায়, তাহলে তারা পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না। আমারও একটি মোবাইল বন্ধ হয়ে গেছে। এটি চালু আছে। এটাও বেশিক্ষণ চালু থাকবে না।'
ভবনে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় একজন রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন জানিয়ে তিনি বলেন, "রাতে ডাক্তার ও অ্যাম্বুলেন্স এসেছিল। একজনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাইরে নেওয়া হয়।
"কিন্তু তারা (আন্দোলনরত ছাত্ররা) উনাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিতে বাধা দেয়। পরে রাত ৪টায় তাকে শহরের নেওয়া সম্ভব হয়।"
রাত দেড়টার দিকে ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর আসে। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তার সঙ্গে সাংবাদিকেরাও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।
সেখানে চুয়েট অ্যালমনাই প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে উচ্চ চাপ পাওয়া যায়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
তখন শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বলেছিলেন, "আমি সুস্থ আছি। আমাদের দুইজন অ্যালমনাই উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। তাই অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছি।
"এখানে যেহেতু আমরা দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ আছি, তাই সবাই অসুস্থ ও ক্লান্ত অনুভব করছেন। কেউ কেউ সাফোকেশনে ভুগছেন। "
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দেয়।
রাতে ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, উপাচার্য পদত্যাগ করে চলে গেলে ভবনের তালা খুলে দেওয়া হবে। আর তা না হলে আগের উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
এরপর রাত ১১টার দিকে রাউজান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা উপাচার্য ভবনে যান। সেখানে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভবনটির পানি-বিদ্যুৎ পরিষেবা চালুর অনুরোধ করে ফিরে যান।
অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম।
