Published : 06 Jan 2026, 12:19 PM
বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রার দুই দশক পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী (জকসু) সংসদের প্রথম নির্বাচন চলছে উৎসবের আমেজে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা একটানা বেলা ৩টা পর্যন্ত চলবে।
তীব্র শীতের মধ্যেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। প্রথমবার ভোট দিয়ে তারা আনন্দ প্রকাশ করছেন।

একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচনও হচ্ছে।
বাংলা বিভাগে বজলুর রহমান মিলনায়তনের দুই কক্ষে ভোট গ্রহণ শুরু হয় ৫০ মিনিট দেরিতে।
বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসাদুল্লাহিল গালিব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মূলত বাংলা বিভাগের জন্য দুটি কক্ষ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে একটি কক্ষের জন্য সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছিল। পরে কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার পর ভোট নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে একটু সময় লেগে যায়।”
শুরুতে কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভালো উপস্থিতি দেখা গেলেও বেলা ১১টার পর ভিড় অনেকটা কমে যায়।

সকালের শুরুতেই ভোট দিতে আসেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী অংকিতা সাহাম। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রথম ভোট। কাজেই আনন্দ উচ্ছ্বাস থাকবেই। শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে যারাই দায়িত্বে আসবে, তাদের স্বাগত জানাব।”
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে প্রথম ভোট দেওয়া তাদের কাছে স্বপ্নের মত। আবার, কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন, প্রার্থীরা তাদের এ ভোটের যথাযথ মর্যাদা দেবে।
শিক্ষার্থী সুস্মিতা ঘোষ হ্যাপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ক্যাম্পাসে প্রথম ভোট দিতে পেরে আমি অনেক খুশি।”

রিজিয়া জান্নাতি নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “জীবনের প্রথম ভোট বিশ্ববিদ্যালয়ে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। বাসায় বসে বসে ব্যালট নম্বর লিখে লিখে মুখস্থ করেছি। আজকে এসে সে অনুযায়ী ভোট দিয়েছি। আশা রাখি প্রার্থীরা তাদের ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করবে।”
এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ৩০ ডিসেম্বর। কিন্তু সেদিন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভোট এক সপ্তাহ পিছিয়ে যায়।
সেই প্রসঙ্গ ধরে নাজিয়াত জামান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “৩০ তারিখ ভোট দেয়ার কথা ছিল। দিতে পারি নাই। ভেবেছি, এই এক্সাইটমেন্ট আর থাকবে না। তবে আজকে ভোট দিতে এসে দেখলাম, শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দিত। ভোট দিয়ে বেশ ভালো লাগছে।”

এই নির্বাচনের মাধ্যমে সাড়ে ১৬ হাজার ৬৪৫ জন শিক্ষার্থীর ভোটে এক বছরের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদ গঠিত হবে। জকসুর ২১টি পড়ে জয় পেতে চারটি প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ১৫৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান বলেন, ভোটগ্রহণ শেষে ছয়টি ওএমআর মেশিনে ভোট গণণা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।