Published : 27 Aug 2025, 06:27 PM
চলমান কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ক্ষমা চাওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা; যেখানে তারা সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন।
বিএসসি ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দাবির ‘যৌক্তিকতা’ যাচাইয়ে সরকারের গঠিত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে তারা ‘পুলিশের হামলায় আহত’ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে, হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় এনে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর শাহবাগের অদূরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ব্রিফিংয়ে এসব দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা।
কর্মসূচিতে পুলিশের বাধার প্রতিবাদে বিফ্রিংয়ে এসে আন্দোলনকারীদের তরফে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকব। আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব শিক্ষার্থী এখানে অবস্থান করব।”
বুয়েটসহ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) লেখাসহ তিন দাবিতে গত কয়েকদিন থেকে কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

আগের দিন মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখার পর ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছাড়েন।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বেলা ১১টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মত বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা শাহবাগের প্রধান সড়কে অবস্থান নেন। এতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হলে যানজট ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের অন্যান্য সড়কেও।

পরে দুপুর দেড়টার দিকে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যুমনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে তা ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে পরে বিকাল সাড়ে ৫টায় ব্রিফিংয়ে দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ।
এসময় আন্দোলন শিক্ষার্থীদের মুখে ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’ স্লোগান শোনা যায়।

এদিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত দাবিগুলোর যৌক্তিকতা পরীক্ষা করে সুপারিশ দিতে একটি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
তবে এ কমিটি প্রত্যাখান করে বিফ্রিংয়ে সেটিকে ‘অনুপযুক্ত’ বলে দাবি করেন তারা।
আগের তিন দাবির সঙ্গে বিকালের বিফ্রিংয়ে তুলে ধরা ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-
>> স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার কারণে ক্ষমা চাইতে হবে এবং জবাবদিহি করতে হবে।
>> বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত দাবিগুলোর যৌক্তিকতা পরীক্ষা করে সুপারিশ দিতে সরকার যে কমিটি গঠন করেছে সেটি ‘প্রতিনিধিত্বের বিচারে অনুপযুক্ত’। প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের অংশীজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি সংস্কার করতে হবে। তিন দফা দাবি মেনে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। এজন্য তিন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, আদিলুর রহমান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে আন্দোলনকারীদের সামনে এসে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
>> হামলায় আহত সব শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকরের পক্ষ থেকে বহন করা। আন্দোলন চলাকালীন সব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পুলিশ দিয়ে আর হামলা করা হবে না বলে নিশ্চিয়তা প্রদান।
>> আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা।
>> হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা।
এর আগে মঙ্গলবার তিন দফা দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করেছিলেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবিগুলো ছিল-
>> নবম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ ও ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার করা।
>>দশম গ্রেডে শুধু ডিপ্লোমাধারীরা আবেদন করতে পারে। সেখানে যেন উচ্চ ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা।
>>শুধু বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং যারা সম্পন্ন করবে তারাই যেন প্রকৌশল (ইঞ্জিনিয়ার) লিখতে পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।
আরও খবর-
বিএসসি ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দাবির 'যৌক্তিকতা' যাচাইয়ে কমিটি
যমুনা অভিমুখে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মিছিল, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ