Published : 02 Dec 2025, 10:20 AM
প্রশাসন থেকে কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় ছাত্রশিবিরের অর্থায়নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলছেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদল সমর্থক চাকসুর এক নেতা।
মাস খানেক আগে চাকসু সক্রিয় হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তহবিল না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জিএস সাঈদ বিন হাবিব।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চাকসুর কাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো একটা পয়সাও দেয়নি। শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা কয়েকটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছি, সেগুলোতে আর্থিক সহায়তা করেছে ইসলামী ছাত্র শিবির ও আমাদের প্রাক্তনরা।”
সাড়ে তিন দশক বাদে গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় চাকসু নির্বাচন, যাতে ২৬টি পদের মধ্যে ভিপি, জিএসসহ ২৪টি পদে জয় পান ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের সদস্যরা। এতে ছাত্রদল জয় পায় কেবল এজিএস পদে।
চাকসুর বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থায়ন প্রসঙ্গে এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে চাকসুর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কোনো বাজেট দেয়নি। চাকসু যেসব কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, সেগুলোর সবগুলো ছাত্রশিবিরের অর্থায়নে হচ্ছে।”
২৫ অক্টোবর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চাকসুর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সেমিনার, উদ্যোক্তা মেলা, ছাত্রী হলে সেলাই মেশিন বিতরণ, হলে উচ্চ শিক্ষা সহায়ক বই বিতরণসহ বিভিন্ন কাজ করার কথা তাদের ফেইসবুক পেইজে প্রচার করা হয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এজিএস তৌফিক বলেন, চাকসু সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম। একটি ছাত্র সংগঠনের টাকায় এর কার্যক্রম চলতে পারে না।
“ছাত্রশিবিরের টাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও বিষয়টি তারা আমাকে জানায়নি। আমি পরে জানতে পেরেছি—বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে শিবিরের টাকায়।”
বিশ্ববিদ্যালয় হিসাব নিয়ামক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিবর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফির সঙ্গে ছাত্র সাহায্য তহবিল ফি ২৫ টাকা, ছাত্র কল্যাণ তহবিল ১১ টাকা এবং ছাত্র কল্যাণ ফি বাবদ ১১ টাকা করে মোট ৪৭ টাকা আদায় করা হয় একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে। সে হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কর্তৃপক্ষ বছরে ১৩ লাখ টাকার বেশি সংগ্রহ করে থাকে।
চাকসুর কোনো তহবিল নেই উল্লেখ করে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনেকেই মনে করেন ৩৫ বছর চাকসু না থাকায় আসমানসম’ টাকা জমে গেছে। কথাটা ঠিক না।
“শিক্ষার্থীরা যখন ভর্তি হয় তখন তারা একটি চাকসু ফি প্রদান করেন। চাকসু যখন কার্যকর ছিল এ ফি দিয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন দিবস পালন করা হতো। গত ৩৫ বছর যখন চাকসু ছিল নাম, তখনও কোনো কিছুতো বন্ধ ছিল না। নিয়মিতভাবে করা হয়েছে।
“এখন চাকসু হয়েছে। এখন তারা কাজ করবে। তাদের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। অফিস ডেকোরেট করা হচ্ছে।”

ছাত্রশিবিরের টাকায় চাকসুর বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য দাবি করেন, তিনি বিষয়টি ‘জানেন না’।
“আপনারা শিবিরের প্রোগ্রামের সাথে চাকসুর প্রোগ্রাম মিক্সড করবেন না। চাকসু আলাদা; ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রশিবির আলাদা। তাদের প্রোগ্রাম তারা করছে দলীয়ভাবে। চাকসু বিশেষ দলের না। চাকসু ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর নির্বাচিত প্রতিনিধির সংগঠন।”
চাকসুর অর্থায়নে স্বচ্ছতা থাকা উচিত মন্তব্য করে এজিএস তৌফিক বলেন, “আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে দায়বদ্ধ। চাকসুর বিভিন্ন আয়োজনের টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে, কোথা থেকে আসছে তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করা উচিত। কিন্তু সেটা হচ্ছে না।”
তৌফিকের ভাষ্য, “চাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমে ছাত্রশিবির টাকা খরচ করা মানে এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার এবং আধিপত্য বজায় রাখার কৌশল। তাই চাকসুর কাজে বিশ্ববিদ্যালয়কে অবশ্যই টাকা দেওয়া উচিত।”
তবে এজিএস তৌফিকের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন জিএস সাঈদ বিন হাবিব।
তিনি বলেন, “চাকসুর কাজে ছাত্রশিবিরের বর্তমান ও সাবেকদের সাহায্যের পেছনে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য নাই। ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মীরা ক্যাম্পাসের জন্য নিঃস্বার্থ সহায়তা করে, বিধায় তাদের কাছ থেকে আমাদের সাহায্য নেওয়া সহজ হয়।”
চাকসুর বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা এ টাকার উৎস সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন জিএস সাঈদ।
আরও পড়ুন