১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাবিতে ‘জাতীয় পতাকা দিবস’ ঘিরে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

পাকিস্তানীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়ানো হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে বটতলায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Mar 2026, 12:16 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:03 PM

জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবের ইতিহাস স্মরণে আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছে ‘বাংলা রেকর্ডস’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। 

রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘পতাকায় বিল্পব ও গৌরব’ শিরোনামে এ আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করা হয়। 

১৯৭১ সালের মার্চের ২ তারিখে পাকিস্তানীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়ানো হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে বটতলায়।

সেদিন বটতলায় প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন সে সময়কার ছাত্রনেতা আ স ম আব্দুর রব। শিবনারায়ণ দাশের নকশায় তৈরি ওই জাতীয় পতাকার মাঝখানে ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জামান, অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হক ও অনুষ্ঠানটির সভাপতি জাফর রাজা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা হয়েছে। 

সেখানে ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জামান বলেন, “আমরা (মুক্তিযোদ্ধারা) হয়ত আর বেশি দিন থাকব না। আমরা তোমাদের একটা পতাকা দিয়েছি। এ পতাকা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জন করেছি। তাই, আমরা চলে যাবো, এ পতাকাটা তোমাদের ধরে রাখতে হবে। 

“আমরা বারবার এ পতাকা, এ জাতীয় সংগীতকে স্মরণ করতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগে বিভাগে খুজলে দেখা যাবে প্রতিটি বিভাগে মুক্তিযোদ্ধা থাকবে। তাই, তাদের স্মরণে এ আয়োজনগুলো অব্যাহত থাকুক।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থগারিক অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হক বলেন, “এই জাতীয় পতাকা হুট করে আকাশ থেকে এসে পড়েনি। এর পেছনে রয়েছে একটা দীর্ঘ ইতিহাস। এর পেছনে আছে অনেক মানুষের শ্রম ঘাম এবং তাজা রক্ত। কাজেই এই পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের চেতনা আমাদের বিশ্বাস এবং আমাদের আত্মপরিচয়।

“আমরা কখনো ভাবতে পারি না মহান মুক্তিযুদ্ধে ৫০ বছর পার হয়ে এসেও মুক্তিযুদ্ধের মাহাত্বকে, গৌরবকে কেউ কালিমা লিপ্ত করার অপচেষ্টা চালাতে পারে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, গভীর বেদনার সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য করতে হচ্ছে এক আন্দোলনের সঙ্গে আরেক আন্দোলন এক অভ্যুত্থানের সঙ্গে আরেক অভ্যুত্থান এক চেতনার সঙ্গে আরেক চেতনার প্রতি তুলনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে ম্লান করার চেষ্টা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে যার সঙ্গে তুলনীয় কোন ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটেনি। কাজেই এই অপচেষ্টা যারা করছে তাদেরকে আমাদের থামিয়ে দিতে হবে।

“সত্যিকারের চেতনা হচ্ছে বাংলাদেশকে ভালোবাসার চেতনা, দুর্নীতিমুক্ত থাকার চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদেরকেও সবসময় ঊর্দ্ধে তুলে রাখার চেয়ে এখানে সেটিকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এই মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত আছে ৩০ লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগ। এটি যদি ভুলে যাই সেদিন থেকে বাংলাদেশের বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রই অর্থহীন হয়ে যাবে।”

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধের একটা চেতনা লালন করার নামে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। যার ধারাবাহিকতায় ছাত্রজনতা তাদের উৎখাত করেছে। তাই, এ সরকার দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আমরা তাদের কাছে একটি শোষণহীন, দুর্নীতি মুক্ত সমাজ চাই।”

এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান।