Published : 23 Aug 2025, 08:33 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিন ইয়ামিন মোল্লা।
ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত 'ডাকসু ফর চেঞ্জ’ প্যানেলের এ ভিপি প্রার্থী বলছেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন নানা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডাকসু নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে।”
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
ভোট পেছানোর সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না তুলে ইয়ামিন মোল্লা বলেন, “আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি, ভোটে প্রার্থীদের ছবি ও নাম হালনাগাদ করার জন্য। কিন্তু তারা বলছে, এটা নিয়ে অনেক সমস্যা হবে।
“ভোটারদের বড় একটা অংশ অনাবাসিক শিক্ষার্থী। আমরা যখন দাবি নিয়ে প্রশাসনের কাছে গেলাম, তারা বলছে, হল কার্ড হালনাগাদ না করলে ভোট দিতে পারবে না।”
প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ডাকসুতে ‘সন্ত্রাসী’ জুলিয়াস সিজারও (ছাত্রলীগের সাবেক নেতা) নির্বাচন করছে; আমরাও করছি। তার বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
“তার মানে এসব নিয়ে আমাদের নিয়মিত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তারপর একটা মারামারি হবে; তখন বলবে, ডাকসু নির্বাচন হওয়ার মতো পরিবেশ নাই।”
তফসিল অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ১১ অগাস্ট। নির্বাচনের মনোনয়নপত্র কেনার সবশেষ তারিখ ১৯ অগাস্ট; পরে তা একদিন বাড়ানো হয়।
সময়সীমা বাড়ানোর সমালোচনা করে ইয়ামিন মোল্লা বলেন, “আমরা নানা দাবি নিয়ে প্রশাসনের কাছে গিয়েছি; নানা অভিযোগ জানিয়েছি, অথচ আমাদের অভিযোগ শুনলো না কখনো।
“অন্যদিকে একটা ছাত্রসংগঠনের ঝামেলা হলো, সেটা ঘিরে ডাকসু নির্বাচনের মনোনয়ন সংগ্রহের সময়সীমা এক দিন বাড়িয়ে দেওয়া হলো। তাহলে কাদের প্রভাবে এতে বড় সিদ্ধান্ত হলো, তা আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জানতে চাই। এভাবে প্রভাব বিস্তার করলে আমরা কার কাছে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন পাব?”
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা অনেক ফাইট করার পর ডাকসু আজ এ পর্যন্ত এসেছে। আমরা কোনোভাবেই ডাকসু নির্বাচন বানচাল হতে দেব না। যারা এভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আপনারা সতর্ক থাকুন।”
ডাকসু ভোট সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমকে 'প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট' আয়োজন করার আহ্বান জানান বিন ইয়ামিন।
তিনি বলেন, “আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রশ্ন করুক। আমাদের মধ্যে জবাবদিহিতা চাওয়া জরুরি। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবেন, কারা তাদের জন্য যোগ্য।”