Published : 24 Nov 2025, 11:41 PM
বাউল শিল্পী আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে এবং সারাদেশে বাউল-ফকির-সুফীদের উপর হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
সোমবার রাত ৮টার দিকে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে মশাল মিছিল বের করেন তারা।
মিছিলটি কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলা এলাকায় গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে সমাবেশ করেন তারা।
সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ফাইজা মেহজাবিন বলেন, “গত দুই বছর ধরে আমরা লাগাতার দেখছি মাজারে হামলা হচ্ছে, সুফি–বাউলদের ওপর হামলা হচ্ছে, যারা ভিন্ন মতের অনুসারী, যারা বাউল–ফকির, তাদের রাস্তায় ধরে ধরে চুল কেটে দেওয়া হচ্ছে।
“একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে ব্যক্তির ব্যক্তি-স্বাধীনতার ওপর এমন আক্রমণ, ভিন্ন মতের ওপর আক্রমণ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। কিন্তু দুঃখজনক হল, এতগুলো হামলার কোনো একটিরও সুষ্ঠু তদন্ত বা সুষ্ঠু বিচার এই অন্তর্বর্তী সরকার দেখাতে পারেনি। অর্থাৎ আমরা আবারও সেই ‘ফ্যাসিস্ট রেজিমের’ মতো বিচারহীনতার দৃষ্টান্তের মধ্যে পড়ে আছি। এই বিচারহীনতার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”
ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, “আমরা নিজেরাই বলি যে এই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে সমাজের সকল বৈষম্য দূর করে ন্যায় ও সমতার সম্ভাবনাকে উজ্জীবিত করার চেতনা ধারণ করার জন্য। কিন্তু বাউল–ফকিরদের ওপর যেভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে, তা নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েমের নিদর্শন। তার সঙ্গে বরাবরের মতোই অন্তর্বর্তী সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে।
“আমরা ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ সকল মজলুমের পাশে থাকব এবং এসব আক্রমণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইমরান হোসাইন শুভ।
বৃহস্পতিবার ঘিওর উপজেলায় এক গানের আসরে ‘ইসলাম ধর্ম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি’র অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।
এ ঘটনায় রোববার মানববন্ধন কর্মসূচি ঘিরে ‘তৌহিদী জনতা’র হামলায় বাউল শিল্পী আবুল সরকারের তিন সমর্থক আহত হন।