Published : 01 Sep 2025, 04:04 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে হাই কোর্ট।
সেই সঙ্গে জিএস পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ৯ সেপ্টেম্বর। হাই কোর্ট ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এ নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি হাবিবুল গণি নেতৃত্বাধীন হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
আদেশের পর শিশির মনির বলেন, “আজকে একজন প্রার্থীর একটা রিট পিটিশনের অংশ হিসেবে হাই কোর্ট বিভাগ রুল জারি করেছেন এবং ডাকসু নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্থগিত করেছেন। আমরা ইন দ্য মিন টাইম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং ডিসাইড করেছি যে- এই আদেশের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা চেম্বার জজ আদালতে স্টে চেয়ে আপিল মামলা দায়ের করব।“
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আইনজীবী বলেন, “আমাদের যতটুকু অভিজ্ঞতা আছে- যেহেতু পিটিশনার তার পিটিশনে ডাকসু নির্বাচন স্থগিত চান নাই; না চাওয়া সত্ত্বেও হাই কোর্ট বিভাগ ডাকসু নির্বাচন স্থগিত করেছেন। এটা অনেকটা নজিরবিহীন। অনেক প্রস্তুতি শেষ হয়ে গেছে। আমরা ফাইনাল ক্যান্ডিডেট ঘোষণা করেছি ২৬ তারিখ। তার পরেও আরো পাঁচ দিন চলে গেছে।
“এই প্রেক্ষিতে এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটা স্থগিত করাটা- বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছে যে, এর মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াটা যদি স্থগিত থাকে, তাহলে ছাত্রদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার তৈরি হতে পারে। এজন্যই ইন দা মিনটাইম আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, যত দ্রুত সম্ভব ঘণ্টা মিনিট হিসাব করে আমরা চেম্বার জজের আদালতে হাই কোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে একটা সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন দায়ের করব।”
৫ অগাস্টের আগে এস এম ফরহাদ ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে’ ছিলেন, এর পরও তিনি কীভাবে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী হলেন– এমন প্রশ্ন তুলে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে রোববার এ রিট মামলা হয়। তিন বাম সংগঠন সমর্থিত ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম এ মামলা করেন।
রিট আবেদনকারী বিএম ফাহমিদা আলম এদিনই সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, “ফরহাদের অবস্থান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং ফরহাদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন, তার কোনো পদত্যাগের প্রমাণ আমরা পাইনি।”
ফরহাদের কর্মকাণ্ড ডাকসুর গঠনতন্ত্রের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “টিএসসিতে তারা রাজাকারদের ছবি টানিয়েছিল। তাদেরকে জাতীয় বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে প্রচেষ্টা ছিল, সেটি ডাকসুর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশের সঙ্গে বিরোধিতা করে।”
এ রিট মামলা ডাকসু নির্বাচন ‘বানচাল করার জন্য নয়’ দাবি করে তিনি বলেন, মামলা করার পর থেকে বিভিন্ন ‘বট অ্যাকাউন্ট’ থেকে তিনি বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।
এর আগে সোমবার মামলা হওয়ার পর ফরহাদ এক ফেইসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, “আমার প্রার্থিতাকে চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়েরকারী বামজোটের নেত্রীকে তার উদ্যোগের জন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
“বিভিন্ন দল কর্তৃক দীর্ঘ সময় ধরে ছবি এডিট করে, ভিডিও বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার চেয়ে আপনার আইনি উদ্যোগ তুলনামূলক ভালো অ্যাপ্রোচ। বাধা, ষড়যন্ত্র কিংবা অপকৌশল মাড়িয়েই আমাদের নিয়মিত পথচলা; এই যাত্রায় আমরা থামব না, ইনশাআল্লাহ।”
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্যানেলে ভিপি পদে লড়ছেন সাদিক কায়েম। আর 'অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪' নামে প্যানেলে ভিপি পদপ্রার্থী হয়েছেন মো. নাইম হাসান হৃদয়। জিএস পদে লড়ছেন এনামুল হাসান অনয়।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল (বাংলাদেশ জাসদের ছাত্র সংগঠন) এর সমন্বয়ে এ প্যানেল গঠন করা হয়েছে।