Published : 13 Oct 2025, 03:11 PM
ঢাকার সাত সরকারি কলেজ একীভূত করে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন।
তিন দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ জারির প্রতিশ্রুতি ছাড়া তারা সড়ক ছাড়বেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।
এই কর্মসূচি ঘিরে সোমবার দুপুর থেকে সচিবালয়মুখী রাস্তা ব্যারিকড দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে পুলিশ। ফলে ওই পথ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে ।
সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর আন্দোলনের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মো. নাইম হাওলাদার দুপুর সোয়া ২টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা চার দফা দাবি জানাচ্ছি৷ যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই দাবিগুলো মানা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।"
১. অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে অধ্যাদেশের খসড়া সংশোধন করে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
২. চলমান সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিনা শর্তে আত্তীকরণের মাধ্যমে ঢাকেবির শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যাদেশে স্বীকৃতির নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৩. অধ্যাদেশ জারির পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে ভিসি, রেজিস্টারসহ সকল গুরুত্ত্বপূর্ণ জনবল নিয়োগ দিয়ে ইউনিভার্সিটি কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
৪. সাধারণ শিক্ষার্থীদের ফেল করানো ও ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে সোমবার সকালে সাত কলেজ ক্যাম্পাস থেকে লং মার্চ করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের দিকে আসেন।
বেলা ১১টা ২০ মিনিটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে ঢাকা কলেজসহ অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা সেখানে যোগ দেন।

অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায় বেশ। তারা 'অধ্যাদেশ নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না', 'শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য চলবে না'–সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, "সরকার সাত কলেজকে নিয়ে কেন্দ্রীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দিলেও এখনও অধ্যাদেশ জারি হয়নি। আজই অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। তা না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেব।"
রাজধানীর সাত কলেজ নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামো প্রস্তাব করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করে অংশীজনদের মতামত চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।
গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইমেইলে ও সরাসরি মতামত সংগ্রহ করা হয়। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইতোমধ্যে ৬ হাজারের বেশি মতামত পাওয়া গেছে।
বর্তমানে মতামতগুলো সংকলন ও বিশ্লেষণের কাজ চলছে বলে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ অংশীজনের সঙ্গে শিগগিরই ধারাবাহিক পরামর্শ সভা আয়োজন করা হবে।

ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের কার্যক্রম যখন চলছে, তখন কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে আন্দোলন চালানো শিক্ষার্থীরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা রোববার সকালে সায়েন্সল্যাব এলাকায় মিছিল ও কয়েক মিনিট সড়ক অবরোধ করে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ‘স্বকীয়তা’ রক্ষার দাবি জানান।
আর কলেজগুলোর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকরা প্রস্তাবিত স্কুলিং সিস্টেমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।