Published : 25 Feb 2026, 12:15 AM
বিএনপি সরকার গঠনের ছয় দিনের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর কে হচ্ছেন নতুন উপাচার্য তা নিয়ে এখন চলছে আলোচনা।
কীভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-১৯৭৩ এর ১১ (১) ধারায় বলা আছে, আচার্য তার নির্ধারিত শর্তে সিনেট মনোনীত তিনজনের প্যানেল থেকে একজনকে চার বছরের জন্য উপাচার্যের দায়িত্ব দিতে পারবেন এবং সেই উপাচার্য পরবর্তী সময়ে আরও চার বছরের জন্য দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য হবেন।
অধ্যাদেশের ১১ (২) ধারায় বলা হয়েছে—ছুটি, অসুস্থতা, পদত্যাগ বা অন্য কোনো কারণে উপাচার্যের পদে সাময়িক শূন্যতা সৃষ্টি হলে আচার্য যাকে উপযুক্ত মনে করবেন, তাকে সেই দায়িত্ব সেই দায়িত্ব পালন করতে দেবেন।
সম্ভাব্য উপাচার্য হিসেবে ইতোমধ্যে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের কয়েকজন শিক্ষকের নাম চাউর হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন—মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুস সালাম।
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর পরিবর্তনের হাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও পরিবর্তন আসে। ওই বছর ২৭ অগাস্ট ভিসির দায়িত্ব পান ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।
নির্বাচনের দুদিন আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা বলেছিলেন তিনি।
অধ্যাপক নিয়াজ সেদিন বলেছিলেন, “আমি এখন মনে করছি যে, এটি একটি দায়িত্ব পালনের পর্বে আমরা একটি ভালো পর্যায়ে এসেছি এবং আমি সরে দাঁড়াতে চাই।”
তবে এও বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য ‘সরকার চাইলে’ আরো কিছুদিন দায়িত্ব চালিয়ে যেতে তার আপত্তি নেই।
তবে নতুন সরকার আসার পর গত রোববার সকালে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।
তার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেট অকার্যকর ছিল। ফলে এবার কীভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
এবার কীভাবে উপাচার্য নিয়োগ হতে পারে, এমন প্রশ্নের উত্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সদস্য এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যেহেতু বর্তমানে উপাচার্য পদে খালি হয়েছে, সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে মাননীয় রাষ্ট্রপতি কাউকে অস্থায়ী নিয়োগ দেবেন। পরে সিনেট সভা ডেকে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন দিয়ে তার পদকে স্থায়ী করবেন।”

এক প্রশ্নের জবাবে কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বর্তমানে সিনেট অকার্যকর রয়েছে। সেক্ষেত্রে উপাচার্য নিয়োগ পাওয়ার পর যেসব সদস্য পদের মেয়াদ শেষ হবে, সেগুলোর জন্য নির্বাচন দিতে হবে।
“পরে সিনেট পূর্ণাঙ্গ হলে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের আয়োজন করবেন। সেখান থেকে নির্বাচিত প্রথম তিনজনের নাম মিনিস্ট্রি হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে গেলে সেসময় তিনি স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ দেবেন।”
জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন মাননীয় রাষ্ট্রপতি মহোদয় এখন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। পরে উপাচার্য সিনেট অধিবেশন ডেকে তিন সদস্যের একটা প্যানেল নির্বাচন করবে। সেটা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের কাছে গেলে সেখান থেকে চূড়ান্ত হবে।”
কবে নাগাদ এ অধিবেশন আয়োজন করা হতে পারে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমাদের তো কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। উপাচার্য মহোদয় তার সময়মত একটা অধিবেশন করে নির্বাচনটা করবেন।”
আগের তিন উপাচার্য যেভাবে দায়িত্বে
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে উপাচার্য হিসেবে সরাসরি দায়িত্ব পেয়েছিলেন ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল। সেই সময় উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি।
অধ্যাপক মাকসুদ কামাল উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার এক বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১০ অগাস্ট তাকে উপাচার্য পদ থেকে সরে যেতে হয়।
তার আগে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভোট ছাড়াই উপাচার্য প্যানেল চূড়ান্ত করা নিয়ে সমালোচনা এবং কয়েকজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটের করা মামলায় ওই প্যানেলের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। এর এক মাসের মাথায় উপাচার্য হিসেবে সরাসরি দায়িত্ব পান ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক মো. আখতারুজ্জামান।
পরে ২০১৯ সালের নভেম্বরে সিনেট সভা ডেকে উপাচার্য নির্বাচন আয়োজন করেন তিনি। এরপর উপাচার্য হিসেবে পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে তিনি দায়িত্ব পান।
এর আগে দুই মেয়াদে উপাচার্য থাকা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকও প্রথমবার ২০০৯ সালে ১৫ জানুয়ারি সরাসরি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান।
পরে ২০১৩ সালের ২৫ অগাস্ট উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন আয়োজন করে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।