Published : 13 Oct 2025, 06:47 PM
ঢাকার সাত সরকারি কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আরও কিছুদিন সময় দিয়ে সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বিকালে সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরারের সঙ্গে আলোচনা শেষে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় শিক্ষা ভবনের সামনে ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিমুল আবির।
তিনি বলেন, “উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি, আমাদের জানিয়েছেন তাদের অধ্যাদেশ জারি করতে আর কী কী প্রশাসনিক ধাপ বাকি আছে। তারা ৬ হাজারের বেশি মতামত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন, সেগুলো সংকলন করা হচ্ছে। এরপর তারা অংশীজনদের সাথে পরামর্শ সভার আয়োজন করবেন।
“তিনি বলছেন, এই মুহূর্তে চাপের মুখে অধ্যাদেশ দিয়ে দেওয়া তাদের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে করা হয়ে উঠবে না।"
আবির বলেন, মতামতগুলো বিশ্লেষণ করা হয়ে গেলে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে তাদের জানানো হয়েছে।
কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমরা আমাদের অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেব। তবে মনে হয় না আজকের মত থাকার দরকার আছে।"
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "যেহেতু রাত হয়ে গেছে, আমাদের এখানে মেয়ে শিক্ষার্থীরাও আছে, স্থগিত করলাম।"
পরে সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর আন্দোলনের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মো. নাইম হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কিছুদিন সময় দিচ্ছি। তবে তা কতদিন সেটি সবার সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।
"মঙ্গলবার আমরা কোনো আন্দোলনের নামছি না, পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"
এদিন বেলা ১১টা থেকে শিক্ষা ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান করছিলেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৭টায় তারা সড়ক ছেড়ে দেন।
তিন দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ জারির প্রতিশ্রুতি ছাড়া তারা সড়ক ছাড়বেন না বলে দুপুরে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সাত কলেজের ২৩ জন প্রতিনিধি এদিন সচিবালয়ে উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেন।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "শিক্ষার্থীরা বিকাল থেকে উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। সন্ধ্যায় তারা বের হয়েছেন সচিবালয় থেকে।"
পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে, সকালে লং মার্চ করে সাত কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের দিকে আসেন।
বেলা ১১টা ২০ মিনিটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে ঢাকা কলেজসহ অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা সেখানে যোগ দেন।
রাজধানীর সাত কলেজ নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামো প্রস্তাব করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করে অংশীজনদের মতামত চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।
গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইমেইলে ও সরাসরি মতামত সংগ্রহ করা হয়। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ৬ হাজারেরও অধিক মতামত পাওয়া গেছে।
বর্তমানে মতামতগুলো সংকলন ও বিশ্লেষণের কাজ চলছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ অংশীজনের সঙ্গে শিগগিরই ধারাবাহিক পরামর্শ সভা আয়োজন করা হবে।
ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজকে নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের কার্যক্রম যখন চলছে, তখন কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে আন্দোলন চালানো শিক্ষার্থীরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকে পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা রোববার সকালে সায়েন্সল্যাব এলাকায় মিছিল ও কয়েক মিনিট সড়ক অবরোধ করে এবং সোমবার দুপুরে মিছিল ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ করে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ‘স্বকীয়তা’ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
আর কলেজগুলোর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকরা স্কুলিং সিস্টেমে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি গঠনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।