পোশাক খাতের প্রণোদনা হঠাৎ না তোলার দাবি জাতীয় পার্টির

“অন্ততপক্ষে জুন পর্যন্ত যে সাবসিডি দেওয়ার কথা, সেটা যেন দেন। জুনের পর থেকে গ্র্যাজুয়ালি যদি কমান, সেটা আমি মনে করি পোশাক শিল্প মেনে নিতে বাধ্য হবে,” বলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Feb 2024, 07:58 PM
Updated : 4 Feb 2024, 07:58 PM

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এতদিন দিয়ে আসা প্রণোদনা হঠাৎ করে তুলে নিলে দেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় এ খাত সমস্যায় পড়বে মনে করছেন সংসদের বিরোধীদলী উপ-নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “হঠাৎ করে যদি সাবসিডি (ভর্তুকি) বন্ধ করা হয়, ইনসেনটিভ (প্রণোদনা) বন্ধ করা হয়, পোশাকখাত অসুবিধার মধ্যে পড়বে।’’

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পর রপ্তানিতে কোনো প্রকার ভর্তুকি বা প্রণোদনা দিতে পারে না কোনো দেশ।

২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে উন্নীত হচ্ছে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রপ্তানি খাতের ৪৩ পণ্যর ওপর থেকে প্রণোদনা ও ভর্তুকি ২০ থেকে ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গত ৩০ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই সিদ্ধান্ত সার্কুলার আকারে জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে একটি খাতের প্রণোদনার হার ঠিক রেখে চারটি পণ্যর ওপর থেকে প্রণোদনা তুলে নেওয়া হয়।

এর ফলে দেশের রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশের যোগানদাতা পোশাক খাতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধী দলীয় উপনেতা।

তিনি বলেন, “এই পোশাক শিল্প আমাদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি প্রধান চালিকাশক্তি। বর্তমানে যেখানে আমাদের ডলার সংকট এবং রপ্তানি আয়ের ওপর চাপ পড়েছে, সেই মুহূর্তে এই সার্কুলারটি আমি মনে করি আমাদের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকারক হবে।’’

চলতি অর্থবছরের জন্য কোন খাতে কতোটুকু প্রণোদনা ও ভর্তুকি দেওয়া হবে, তা গত অগাস্টে প্রজ্ঞাপন আকারে জানিয়েছিল সরকার। সেখানে ৪৩ পণ্যর বিপরীতে প্রণোদনা, নগদ সহায়তা, বিকল্প সহয়তা, বিশেষ সহায়তা ও ভর্তুকির হার বলা ছিল।

পাঁচ মাস পরে সেই প্রণোদনা বিভিন্ন হারে কমিয়ে আনার সমালোচনা করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “সেটার ওপর ভিত্তি করে পোশাক শিল্পের যারা আছেন, তারা এই জুন পর্যন্ত কন্ট্রাক্ট করেছেন। সেই কন্ট্রাক্ট করার সময় সাবসিডিকে হিসাবের মধ্যে নিয়েছেন। এখন যদি এটা বন্ধ করা হয়, তাহলে এই পোশাকশিল্পের যারা আছেন, তারা প্রচণ্ড ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পড়বেন।’

তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পেলেও গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। গ্যাস সরবরাহও পর্যাপ্ত নয়। তার ওপর বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা কমছে। এ অবস্থায় প্রণোদনা তুলে নিলে চাপ আরো বড়বে বলে মনে করছেন জাতীয় পার্টির এ নেতা।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি, পোশাক শিল্প অসুবিধার মুখে পড়বে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেজন্য আমি অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশে ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে অনুরোধ করব, যেন এই সার্কুলারটি রহিত করেন।

“অন্ততপক্ষে জুন পর্যন্ত যে সাবসিডি দেওয়ার কথা, সেটা যেন দেন। জুনের পর থেকে গ্র্যাজুয়ালি যদি কমান, সেটা আমি মনে করি পোশাক শিল্প মেনে নিতে বাধ্য হবে। কারণ আমরা ডব্লিউটিওর অধীনে ২০২৬ সালের পরে কোনো রকম সাবসিডি দিতে অপারগ।“