সড়কে দীর্ঘযাত্রার ভয় ঈদে যাত্রী বাড়িয়েছে আকাশপথে

ঈদযাত্রার দিনগুলোর বেশিরভাগ টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় অনেকগুলো এয়ারলাইন্স কয়েকটি রুটে ফ্লাইটও বাড়িয়েছে।

মাছুম কামালবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 April 2024, 06:20 PM
Updated : 3 April 2024, 06:20 PM

রোজার ঈদের দিন দশেক বাকি থাকতেই টিকেট কাটার ঝামেলা চুকিয়েছেন আকাশপথের যাত্রীদের বেশির ভাগই। ট্রেন বা বাসের মতো নির্দিষ্ট দিনে আগাম টিকেট কাটার ঝক্কি না থাকায় তারা আগেভাগেই সেরেছেন এ কাজ। 

অভ্যন্তরীণ পথে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্সগুলো বলছে, ঈদযাত্রার দিনগুলোর বেশিরভাগ টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় অনেকগুলো এয়ারলাইন্স কয়েকটি রুটে ফ্লাইটও বাড়িয়েছে। 

আগেভাগেই টিকেট কাটা যাত্রীদের একজন আবদুল্লাহ আল মামুন। ঢাকায় একটি বহুজাতিক কোম্পানির এ ব্যবস্থাপকের গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে। বাড়ির কাছেই বিমানবন্দর থাকায় আর সড়কে যানজটের ঝঞ্জা এড়াতে এবার তিনি বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সে করে বাড়ি যেতে টিকেট কেটেছেন।

কেন আকাশপথ  বেছে নেওয়া-এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আগেরবার নিজেদের গাড়িতে বাড়ি যেতে ঝক্কির কথা তুলে ধরেন। বলেন, “ঢাকা থেকে সৈয়দপুর পৌঁছাতে গত ঈদের সময় ১৮ ঘণ্টার কাছাকাছি সময় লেগে গিয়েছিল। যমুনা সেতু পর্যন্ত পৌঁছাতেই লেগেছে ১০ ঘণ্টার বেশি। এত দীর্ঘ সময়ে ভ্রমণের ধকল তো আছেই; ছোট বাচ্চা আছে; ওরা অসুস্থ হয়ে যায়। 

“এদিকে আবার চাকরিজীবী হিসেবে আনলিমিটেড ছুটিও পাই না। তাই সবমিলিয়ে ফ্লাইটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।” 

ফ্লাইটে ঈদে বাড়ি যাওয়ার বিষয়ে প্রায়ই একই কথা বললেন চট্টগ্রামের রিয়াজুল হক। বিদ্যুৎ বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, “ঈদে জ্যাম ঠেলে আসলে এতদূর যাওয়া বেশ কষ্টকর হয়ে যায়। অন্যান্যবার আমি গণপরিবহনে যাতায়াত করি। এবার ভাবলাম ভাড়ায় তো আহামরি তফাৎ না, ফ্লাইটেই যাই। পরিবারও যাবে সাথে। সময়ও বাঁচল।” 

যশোরের বাসিন্দা ইমাম উল হক চাকরি করেন দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি কোম্পানির বিপণন বিভাগে। ঈদ ছাড়া গ্রামের বাড়ি তেমন যাওয়া না হওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, যানজটে আগেরবার ছুটির অনেকটা সময় পথেই কেটে যায়। যে কারণে এবার ফ্লাইটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। 

বেড়েছে ফ্লাইট

ঈদে আকাশপথে যাত্রী চাহিদা বাড়ায় সরকারি-বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট বাড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ রুটে অতিরিক্ত ৯টি (যাওয়া-আসা মিলে ১৮টি) অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করার সূচি ঘোষণা করেছে। 

আগামী ৪ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর ও বরিশাল রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইটগুলো চলবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে এয়ারলাইন্সটি। এছাড়া সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটের যাত্রীরা নিয়মিত ফ্লাইটে যেতে পারবেন।

বিমান বাংলাদেশের টিকেট বিক্রি করে গ্যালাক্সি ট্রাভেল। এ এজেন্সির বুকিং সহকারী রাশেদুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আপ-ডাউন মিলিয়েই বিমানের টিকেটের চাহিদা আছে। সবচেয়ে বেশি যাত্রীদের সাড়া মিলছে যশোর রুটে। 

ঈদ উপলক্ষে বিমানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ থেকে টিকেট কেনায় প্রমোকোড ব্যবহার করে মূল ভাড়ার উপর ১০ শতাংশ ছাড়ও দেওয়া হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। 

বেসরকারি খাতে দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা ঈদ উপলক্ষে ফ্লাইট না বাড়ালেও যাত্রীদের চাপ থাকার তথ্য দিয়েছে। 

এয়ারলাইন্সটির জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঈদে আমরা ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ইতোমধ্যে যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর রুটে ২৫ রোজার পর থেকে ঈদ পর্যন্ত টিকিট সোল্ড আউট হয়ে গেছে। অন্যদিকে ঈদ পরবর্তী ফিরতি যাত্রারও প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।” 

আন্তর্জাতিক রুটের মধ্যে মালদ্বীপ, ভারতের কলকাতা, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক রুটে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি টিকিট বিক্রি হওয়ার কথা বলেন তিনি।   

ঈদকে সামনে রেখে চারটি ফ্লাইট বাড়িয়েছে নবীনতম বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা এয়ার অ্যাস্ট্রা। সোমবার থেকেই সৈয়দপুর রুটে প্রতিদিন চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ারলাইন্সটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এয়ারলাইন্সটি বলেছে, ঢাকা থেকে সৈয়দপুর রুটে ফ্লাইটগুলো ছেড়ে যাবে সকাল ৭টা ১০, দুপুর ২টা ৫, বিকেল ৫টা ১৫ ও রাত ৮টা ৫ মিনিটে। অন্যদিকে সৈয়দপুর থেকে ঢাকার পথে ফ্লাইটগুলো ছেড়ে আসবে সকাল ৮টা ৪০, দুপুর ৩টা ৩৫, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ এবং রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে। তবে কতদিন পর্যন্ত বাড়তি ফ্লাইট চলবে, তা এখনও ঠিক করেনি এয়ারলাইন্সটি। 

সৈয়দপুরের পাশাপাশি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে চারটি, কক্সবাজার রুটে চারটি ও সিলেট রুটে প্রতিদিন তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ার অ্যাস্ট্রা। 

এয়ারলাইন্সটির জনসংযোগ শাখার উপ-ব্যবস্থাপক সাকিব হাসান শুভ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ফ্লাইট বাড়ানোর চিন্তা যাত্রী চাহিদাকে কেন্দ্র করে। বিশেষ করে সৈয়দপুরে যাত্রী বেড়েছে।“ 

কক্সবাজার ছাড়া বাদবাকি রুটগুলোতে আপ-ডাউন মিলিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে তার দাবি। 

যাত্রী বাড়লেও আরেক বেসরকারি এয়ারলাইন্স নভোএয়ার ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। এয়ারলাইন্সটির হেড অব মার্কেটিং মেজবাহ-উল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ফ্লাইট বাড়াচ্ছি না। যে ক্যাপাসিটি আছে, সেটাই ইউটিলাইজ করার চেষ্টা করছি। যাত্রীদের চাহিদা ভালো অন্য সময়ের তুলনায়। সবচেয়ে বেশি চাহিদা সৈয়দপুর রুটে।” 

এবার ২৯ রোজা হলে ঈদ হবে ১০ এপ্রিল বুধবার। আর রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদ হবে ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। তবে ৩০ দিন মাস ধরে ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছে সরকার। ঈদ কবে হবে তা চূড়ান্ত করতে আগামী ৯ এপ্রিল সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।