Published : 22 Jun 2023, 01:15 AM
ভোটের আগেই এফবিসিসিআইর পরবর্তী সভাপতির নাম ঘোষণা করে দিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতিরা।
মঙ্গলবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ও বর্তমানে নেতাদের এক এক অনুষ্ঠানে পরবর্তী সভাপতি হিসেবে মো. মাহবুবুল আলমের প্রতি সমর্থন জানান হয়।
চট্টগ্রাম থেকে এফবিসিসিআইর নেতৃত্বে আসায় মাহবুবুল আলমকে অভিনন্দনও জানান প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, যিনি এফবিসিআইর সাবেক সভাপতি।
২০১৫-২০১৭ মেয়াদে ব্যবসায়ী আব্দুল মাতলুব আহমাদের নেতৃত্বাধীন পর্ষদে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করা মাহবুবুল আলম বর্তমানে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবং খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩১ জুলাই এফবিসিসিআইয়ের ২০২৩-২০২৫ মেয়াদের পর্ষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
তবে নতুন সভাপতি হিসাবে একজনকে চূড়ান্ত করায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে ভোটাভুটির পথ অনেকটাই সংক্ষিপ্ত হয়ে এল।
ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে বর্তমান পর্ষদও সাবেকদের হস্তক্ষেপে পদের সমান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বেছে নিয়ে নির্বাচনের পথ এড়িয়েছিল। সেবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৪৬টি পরিচালক পদের জন্য ৪৬ জন প্রার্থী অবশিষ্ট ছিল।
নির্বাচিত ৪৬ জন ছাড়াও সরকার মনোনীত ৩২ জনসহ মোট ৭৮ জন ব্যবসায়ী এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান পর্ষদের নেতৃত্বে রয়েছেন।
এবারের নির্বাচন বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক মো. শামছুল আলম এবং অগ্রণী ব্যংকের পরিচালক কে এম এন মঞঞ্জুরুল হক।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, সোনারগাঁও হোটেলে ‘ডেভেলপিং স্মার্ট লিডারশিপ টু ক্রিয়েট স্মার্ট ইকোনমি’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন পরবর্তী সভাপতি হিসাবে মাহবুবুল আলমের নাম প্রস্তাব করেন।
এসময় মঞ্চে উপস্থিত থেকে তাতে সমর্থন জানান সালমান এফ রহমান, বর্তমান সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, মাহবুবুর রহমান, কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, মীর নাসির হোসেন, আব্দুল আওয়াল মিন্টু।
শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন অসুস্থ থাকায় পরবর্তীতে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, “এক সময় এফবিসিসিআইতে প্রক্সি ভোটে নেতা নির্বাচিত হত। এখন সেই পদ্ধতি নেই। এখানে যোগ্যরাই নির্বাচিত হয়ে আসেন।”
দীর্ঘ সময় পর চট্টগ্রাম থেকে এফবিসিসিআই নেতৃত্ব আসার সিদ্ধান্ত হওয়ায় মাহবুবুল আলমকে অভিনন্দন জানান সালমান রহমান।
চট্টগ্রাম হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের এব সময়ের সভাপতি মাহবুবুল চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব। এছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন কমিটিতে আছেন তিনি।

বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সহ সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এফবিসিসিআইয়ের সব কজন সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলম সাহেবকে পরবর্তী সভাপতি হিসাবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
“আমিও মনে করি মাহবুবুল আলম সাহেব ভালো মানুষ। উনি এই সরকারের আমলে কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারবেন সেটা জানিনা। উনি আমার সময়েও এফবিসিসিআইয়ের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিল। সেই হিসাবে আমিও সমর্থন দিয়েছি।”
এর মধ্য দিয়ে প্রত্যক্ষ ভোটের নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়ার একটা প্রক্রিয়া হলো কি না- জানতে চাইলে মিন্টু বলেন, “দুই-একটা ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের কোনো চেম্বার বা অ্যাসোসিয়েশনে নির্বাচন হয় না। এফবিসিসিআইও এর ব্যতিক্রম নয়।”
এফবিসিসিআইর বর্তমান সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, “এফবিসিসিআইতে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। ভালো লিডার থাকলে সেগুলো সম্ভব। সরকার বলেছে, দেশের অর্থনীতির ৮২ শতাংশ বেসরকারি খাতের অবদান। এ সংগঠনে উপযুক্ত নেতা দরকার। আগামী নেতৃত্ব এফবিসিসিআইকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী।”
সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, “এ সংগঠনে যিনি যখন দায়িত্বে থাকেন, তখন তিনি কীভাবে সংগঠনটিকে পরিচালনা করেন, সেটাই বিবেচনার বিষয়। এফবিসিসিআইতে অনেক সদস্য বেড়েছে। সেবার মানও সেই হারে বাড়াতে হবে।”
মীর নাসির বলেন, “আন্তর্জাতিক ও দেশীয় নানা কারণে অর্থনীতি ক্রান্তিকাল পার করছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং ব্যবসায়ী সমাজকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মাহবুবুল আলম যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবেন বলেই আশা করি।”
সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, মতবিরোধ ভুলে সবাইকে ভোটের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।
মাহবুবুল আলম বলেন, “দায়িত্ব পেলে সিনিয়রদের উপদেশ এবং পর্ষদের নির্বাচিত প্রতিনিধি সমন্বয়ে সকলে মিলে একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট নেতৃত্ব তৈরিতে কাজ করে যাব।
“প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০৪১ সালে সুখী, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে উন্নত, আধুনিক ও স্মার্ট কমিউনিটি, স্মার্ট অর্থনীতি গঠনে কাজ করব।”
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইর সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, মো. কামাল উদ্দিন, মুনতাকিম আশরাফ, বর্তমান সিনিয়র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী বাবুসহ বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।