Published : 25 Feb 2026, 03:38 PM
তিন কর্মকর্তাকে ‘তাৎক্ষণিক’ বদলির পরের দিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠা বাংলাদেশ ব্যাংকে হঠাৎ সংবাদ সম্মলেনে এসে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ব্যাংক একীভূতকরণ ও দুর্বল ব্যাংক পুনরুদ্ধারের চেষ্টার বিরুদ্ধে একটি ‘কুচক্রী মহল অপপ্রচার’ চালাচ্ছে।
আগের দিন কারণ দর্শানোর চিঠি পাওয়া কর্মকর্তাদের ‘তাৎক্ষণিক’ ঢাকার বাইরে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
তার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবনের সামনে প্রতিবাদ সভা করে।
সভায় বলা হয়, কারণ দর্শানো নোটিস ও বদলির আদেশ প্রত্যাহার না করলে বৃহস্পতিবার থেকে গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে কলম বিরতিতে যাবেন কর্মকর্তারা।
তারপরই গভর্নর ভবনের চতুর্থ তলা জাহাঙ্গীর আলম মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন।
তিনি বলেন, “ব্যাংক একীভূতকরণ (মার্জার) ও দুর্বল ব্যাংক পুণরুদ্ধার করার চেষ্টার বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কিছু কর্মকর্তা ষড়যন্ত্র করছেন।
“মার্জার হওয়া ব্যাংক আবার আগের মালিকদের হাতে ফিরিয়ে নিতে একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে।’’
আর্থিক সংকটে জেরবার শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন একটি ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।
আহসান মনসুর বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার অধিকার নেই সরকারি নীতিগত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার। এটি তাদের আওতাভুক্ত বিষয় নয়। যারা অপপ্রচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে শোকজ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’’

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিস পাওয়া তিন কর্মকর্তাকে মঙ্গলবার তাৎক্ষণিক বদলির (স্ট্যান্ড রিলিজ) আদেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন সরকার গঠনের আগে ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদন পাচ্ছে— এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন ডাকার ঘটনায় এ তিনজনকে দুদিন আগে কারণ দর্শাতে বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
বদলির মুখে পড়া তিন কর্মকর্তা হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল, ঢাকার সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ এবং কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠন করা নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা।
বুধবার তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা । কিন্তু তারা সেখানে না গিয়ে প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন।
বদলির আদেশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক কর্মকর্তা দীর্ঘ পোস্ট লেখেন। সেখানে গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
এ বিষয়ে আহসান মনসুর বলেন, “শোকজের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে।
“একটি প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে হলে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। চাকরি করবো কিন্তু প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মানবো না—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”
তার পদত্যাগের দাবির বিষয়ে সাংবাদিক প্রশ্নে গভর্নর বলেন, “পদত্যাগ কোনো ইস্যু নয়। আমি এখানে চাকরি করতে আসিনি, সেবা দিতে এসেছি। প্রয়োজন হলে দুই সেকেন্ড সময় লাগবে না পদত্যাগ করতে। তবে আমরা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিষয়ে সরকারকে জানানো হয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে অবশ্যই সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই আমরা এগোচ্ছি।
“সাতটি ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটির মার্জার কোনো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের বিষয় নয়। এটি সরকারি নীতিগত ও পলিটিক্যাল ইকোনমির বিষয়। ৭৬ লাখ ডিপোজিটরের স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’
আগের খবর:
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই ৩ কর্মকর্তাকে 'তাৎক্ষণিক বদলি'
মার্জার: লাইসেন্স পেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক