১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই ৩ কর্মকর্তাকে ‘তাৎক্ষণিক বদলি’

এরমধ্যে মাসুম বিল্লাহকে রংপুর, গোলাম মোস্তফা শ্রাবণকে বগুড়া ও নওশাদ মোস্তফাকে বরিশাল কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Feb 2026, 08:23 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:01 PM

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিস পাওয়া তিন কর্মকর্তাকে এবার তাৎক্ষণিক বদলির (স্ট্যান্ড রিলিজ) আদেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  

নতুন সরকার গঠনের আগে ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদন পাচ্ছে— এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন ডাকার ঘটনায় এ তিনজনকে দুদিন আগে কারণ দর্শাতে বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বদলির মুখে পড়া তিন কর্মকর্তা হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল, ঢাকার সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ এবং কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠন করা নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা।

এরমধ্যে এ কে এম মাসুম বিল্লাহকে রংপুর কার্যালয়, গোলাম মোস্তফা শ্রাবণকে বগুড়া ও নওশাদ মোস্তফাকে বরিশাল কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিনজনকেই ঢাকার বাইরের অফিসগুলোতে বদলি করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের আগের দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি জরুরি পর্ষদ সভা ডাকে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পর্ষদ সভা শুরুর আগে বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল।

সেখানে সংগঠনটির সভাপতি একে এম মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। 

সেখানে মাসুম বিল্লাহ বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময় মাত্র এক দিনের নোটিসে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি পর্ষদ সভা ডাকা হয়।

“এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সভার মূল উদ্দেশ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া, যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে।”

সরকার গঠনের আগের দিন পর্ষদ সভা ডাকা; পর্ষদ সভার আগে সংবাদ সম্মেলন এবং ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের অনুমোদন নিয়ে সেদিন বেশ উত্তাপ ছড়ায়। সেই উত্তাপের মাঝে অবশ্য শেষমেশ পর্ষদ সভায় ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের আর অনুমোদন পায়নি। 

কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের পরই এক অভ্যন্তরীণ আদেশ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে বা ঘরোয়া বৈঠকে, জনসভায়, সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকসংক্রান্ত বা নীতিমালার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারবেন না।

সেই সংবাদ সম্মেলনের জের ধরে রোববার তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। আর মঙ্গলবার এল তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ। 

আরও পড়ুন

সংবাদ সম্মেলন করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাকে 'কারণ দর্শাও'

সরকারের শেষ সময়ে ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে যা হল বাংলাদেশ ব্যাংকে