Published : 17 Feb 2026, 12:33 AM
নতুন নির্বাচিত সরকার গঠনের আগ মূহুর্তে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন করা নিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে; কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে শেষমেষ পর্ষদ সভায় তা আর অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
সোমবার বিকালে পর্ষদ সভার পর মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) একটি কোম্পানিকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার ওই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘‘কোনো সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়নি। শুধু অবহিত করা হয়েছে।’’
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বোর্ড চেয়েছিল সেজন্য ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের আবেদন যাচাইয়ের মূল্যায়ন প্রতিবেদন পর্ষদ সভায় অবহিত করা হয়।“
এর আগে সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের সম্মেলন কক্ষে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে দাবি করে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল, ঢাকা।
সংগঠনটির সভাপতি একে এম মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময় মাত্র এক দিনের নোটিসে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি পর্ষদ সভা ডাকা হয়।
‘‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সভার মূল উদ্দেশ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া, যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে।’’
একটি ব্যাংকের মালিকানাধীন এমএফএস সেবাদাতা ওই মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানিকেব লাইসেন্স দিতে মঙ্গলবার জরুরি পর্ষদ সভা ডাকা হয় বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
নিয়ম অনুযায়ী প্রচলিত কোনো ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ মালিকানা থাকতে পারবে ডিজিটাল ব্যাংকে। প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকের আবেদনে ব্যাংকটির মালিকানা রয়েছে ৫১ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে কেউ এমএফএস কোম্পানিটির নাম উচ্চারণ করেননি। তবে বলেছেন মোবাইল ব্যাংকিং বাজারে কোম্পানিটির হিস্যা সবচেয়ে বেশি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্বো আসার আগে আহসান মনসুর ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। সংগঠনটির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটিকে ‘বিশেষ সুবিধা দিতে’ এমন উদ্যোগ।
বিকালে যা হল
কর্মকর্তাদের এমন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের পরই এক অভ্যন্তরীণ আদেশ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে বা ঘরোয়া বৈঠকে, জনসভায়, সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকসংক্রান্ত বা নীতিমালার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারবেন না।
এর আগে সোমবার বিকেলে আগের দিনের জরুরি নোটিসে ডাকা পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ডিজিটাল ব্যাংক প্রসঙ্গ এলেও লাইসেন্স দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা নির্ধারিত সূচিতে ছিল না বলে তথ্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, ‘‘শুধু মূল্যয়ান প্রতিবেদন অবহিত করার বিষয়টি ছিল। সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রতিবেদনও দিয়েছে, কোনো সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়নি।’’
কোনো বিষয়ে পর্ষদ সভার সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তা তিন ধাপে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অনুমোদন শেষে প্রতিবেদন পাঠায়। সবশেষ তা পর্যালোচনা করে পর্ষদ সভা। সেখানে বিষয়টির প্রেক্ষাপট, সুপারিশ বা মতামতসহ সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়। সেক্ষেত্রে পর্ষদ নতুন শর্ত সংযোজন বা বিয়োজন করে থাকে অনেক সময়ে।
পরে পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট বিভাগ সার্কুলার আকারে জানিয়ে দেয়।
বর্তমান পর্ষদ সভায় গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও এনবিআরের চেয়ারম্যানসহ সরকার মনোনিতরা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন।
ডিজিটাল ব্যাংকের আবেদন যাদের
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেছেন, সবেশষ ১৩টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য আবেদন করেছে।
এগুলো হল- ১২টি কোম্পানি মিলে গঠন করা ‘ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’, ভুটানের ডিকে ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, ২২টি ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী সংস্থা মিলে প্রস্তাব দেওয়া ‘আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২’, ব্যক্তি পর্যায়ে সামষ্টিকভাবে আবেদন করা ‘৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’, মোবাইল কোম্পানি রবি আজিয়াটার ‘বুস্ট’, কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী মিলে ‘আমার ব্যাংক’, প্রবাসী উদ্যোক্তাদের ‘অ্যাপ ব্যাংক’, বাংলালিংক ও স্কয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ ‘নোভা ডিজিটাল ব্যাংক’, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা আশা এর ‘মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’, আকিজ রিসোর্সের ‘মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক’, ব্র্যাক ব্যাংকের মালিকানাধীন বিকাশের ‘বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক’, ডিবিএল গ্রুপের ‘জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক’, আইটি সলিউশন লিমিটেডের ‘উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক’।