Published : 09 Jun 2026, 11:42 PM
নতুন চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া ঘিরে আলোচনার মধ্যে ‘টাকা তোলার চাপ’ বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।
নগদ টাকার সংকট মেটাতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বড় অঙ্কের এ টাকা ধার হিসেবে চাওয়ার তথ্য দিয়েছেন শরীয়াহভিত্তিক এই ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটি এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য পেলেও এবার দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি সন্ধ্যা পর্যন্ত।
ইসলামী ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘আমরা সভা করছি, দেখা যাক কী হয়। তারল্য ব্যবস্থা তো করা লাগবে। এ বিষয়ে ব্যাংকের এমডি আপনাদের বিস্তারিত জানাবেন।’’
কত টাকা চাওয়া হল- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘’১০ হাজার কোটি টাকা।’’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ধার হিসেবে ইসলামী ব্যাংক এ অর্থ চেয়েছে।
ট্রেজারিসহ সরকারি বিভিন্ন সুকুকে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ রয়েছে ১৮ হাজার ২৯৩ কোটি ২১ লাখ টাকার। এই অর্থের বিপরীতে ইসলামী ব্যাংক ধার চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে।
ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, কিছু গ্রাহক আসছে টাকা নিতে। কেউ আসছে যাচাই করতে আসলে টাকা পাওয়া যাবে কি না। আস্থা ধরে রাখতে হলে এখন আগে যে চাইবেন তাকে টাকা দিতে হবে।
সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা না দিলে ট্রেজারি বিল বিক্রি করে দেওয়ার আলোচনা চলছে।’’
কোরবানি ঈদের আগে ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেন। সেদিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ঈদের পর এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ব্যাংকটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি।
‘গ্রাহক ফোরাম’ নামেরে ব্যানারে তখন থেকে তারা বিক্ষোভ করছে। আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দিতে একদিন পুলিশ বলপ্রয়োগও করে।
এরপর গত কয়েকদিনে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকরা তিন হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বলে খবর আসে।
এমন প্রেক্ষাপটে এ নিয়ে মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা ও বিতর্কও হয়েছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে সরকার ও বিরোধী দল।
সংসদে জামায়াতে ইসলামী ব্যাংকটিকে পুনর্দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুললে অর্থমন্ত্রী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংকটিকে ‘অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে’।
টাকা তুলতে সমস্যার কথা বলছেন কেউ কেউ
হঠাৎ করে তারল্য সংকট তৈরি হওয়ায় রাজধানীতে ইসলামী ব্যাংকের কিছু শাখা থেকে টাকা না পাওয়ার দাবি করছেন কিছু গ্রাহক।
মঙ্গলবার মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংক স্থানীয় শাখায় দুই লাখ টাকার চেক নিয়ে গিয়েছিলেন তামান্না ইসলাম নামের একজন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘এটা আমার স্বামীর অ্যাকাউন্ট। ইসলামী ব্যাংকে সমস্যা হচ্ছে শুনে তিনি (স্বামী) বললেন, কিছু টাকা তুলে অন্য ব্যাংকে রাখি। এজন্য চেক জমা দেই। কোনো টাকা দিল না। জানালো, গ্রাহকের মোবাইলে বার্তা চলে যাবে।’’
স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারলেন বার্তায় লেখা ‘চেক রিটার্ন’।
টাকা না পাওয়ার কথা ফেইসবুকেও বলছেন অনেকে। ফেইসবুকভিত্তিক কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এর গ্রাহক নামে। সেখানে মোহাম্মদ মাহফুজ নামে একজন লিখেছেন, ‘‘কয়েকটি বুথে গিয়েও টাকা পেলাম না। ইসলামী ব্যাংকের বুথে কী টাকার সমস্যা হয়ে গেল।’’
অপরদিকে এটিএম বুথগুলোতে শুধু ইসলামী ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলা যাচ্ছে। তবে অন্য ব্যাংকের কোনো কার্ড দিয়ে টাকা তুলতে পারছেন না অনেকে।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড় ও মহাখালী আমতলি এলাকায় থাকা ইসলামী ব্যাংকের বুথ থেকে অন্য কোনো ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলা যায়নি বলে তথ্য মেলে।
‘রাজনৈতিক ফায়দার চেষ্টা’, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জামায়াতের অভিযোগের জবাবে অর্থমন্ত্রী