Published : 09 Jun 2026, 08:26 PM
ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান বসানোর পর আলোচনার মধ্যে ব্যাংকটি দখলচেষ্টার অভিযোগ সংসদে তুললেন বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ব্যাংকটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। ৫ অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি যখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, তখন আবারো এর ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।”
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আনা এক নোটিসের ওপর আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমানের দেওয়া নোটিসে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ‘প্রকৃত মালিকদের’ কাছে ফেরত দেওয়া এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় ‘হস্তক্ষেপ’ বন্ধ করার দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
গত ২৪ মে চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করার পর ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সেদিনই খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি।
‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে কর্মসূচি থেকে খুরশীদ আলমের পাশাপাশি গভর্নর মোস্তাকুর রহমানেরও পদত্যাগ চাইছেন আন্দোলনকারীরা।
খুরশীদ আলমকে এস আলম গ্রুপের সহযোগী আখ্যা দিয়ে তাকে সরানোর দাবি জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। তারা বলছেন, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের দখলে যাওয়ার আগে যারা পর্ষদে ছিলেন, তাদেরকেই পরিচালনায় ফেরাতে হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, “ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকটের মূল কারণ মালিকানা কাঠামোতে জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ। জোর-জবরদস্তি করে যাদের কাছ থেকে শেয়ারগুলো ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, অনতিবিলম্বে সসম্মানে সেই মূল্যেই তাদের কাছে আবার শেয়ারগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”
শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, “শেয়ারগুলো কীভাবে হস্তান্তর হয়েছে, সারা দুনিয়া জানে। বিভিন্ন শেয়ারহোল্ডারকে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে তাদের শেয়ার হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়েছিল। শেয়ার মালিকানা নিয়ে তদন্ত হতে পারে, কিন্তু মালিকদের অধিকার অস্বীকার করা যায় না।”
ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য এস আলম গ্রুপকে ব্যবহার করা হয়েছিল মন্তব্য শফিকুর রহমান বলেন, “এস আলমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংকটাকে ধ্বংস করেছেন শেখ হাসিনা।”
ইসলামী ব্যাংককে ‘জামায়াতের ব্যাংক’ তকমা দেওয়ার সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, “এটা সকলের ব্যাংক। শুধু জামায়াতের মানুষের ব্যাংক নয়। বিএনপির বহু মানুষ আছেন, অন্য দলের মানুষ আছেন, অন্য ধর্মের মানুষ আছেন।
“এই ব্যাংকের গায়ে লেখা নাই যে শুধু একটি দল বা একটি মতের মানুষ এখানে ব্যাংকিং করবে।”
রাজনৈতিক পরিচয়কে অজুহাত বানিয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করা হলে তা শেষ পর্যন্ত ব্যাংক ও আমানতকারীদের ক্ষতির কারণ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান বসানো নিয়ে আপত্তি তুলে শফিকুর রহমান বলেন, “৫ অগাস্টের পর ইসলামী ব্যাংক কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পেয়েছিল। আশা করেছিলাম সরকার বিদেশে চলে যাওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেবে। কিন্তু আমরা দেখছি সেই দিকে না গিয়ে বিতর্কিত লোকদের সেখানে বসানো হচ্ছে।
“কোন কারণে চেয়ারম্যানকে পরিবর্তন করা হল? কোন কারণে এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হল? এটা জাতির কাছে পরিষ্কার থাকা উচিত।”
নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।