Published : 08 Jun 2026, 12:27 AM
উচ্চ সুদহার, ডলার ও গ্যাসের দরবৃদ্ধির সঙ্গে এবার বিদ্যুতের দর বাড়ানোর কারণে নতুন করে চাপে পড়তে যাওয়া ইস্পাত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সরকার পদক্ষেপ পদক্ষেপ দেখতে চান এ খাতের শিল্পগোষ্ঠী রহিম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মারুফ মহসিন।
তিনি বলেন, দেড় বছর ধরে নানা কারণে চাপে থাকা এ খাতের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। যে কারণে কোম্পানিগুলো এখনও লোকসান দিচ্ছে। তবে বেশি লোকসান দিতে হলে শেষ পর্যন্ত তা ক্রেতার উপরই প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তার।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, “সরকার যদি কিছু নীতি করে যে ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা, কেনার ক্ষমতা যদি বাড়ানো যায়, তাহলে আরও ভালো হবে। তাহলে দিন শেষে সবাই এর সুবিধা পাব।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’ এ এসব কথা বলেছেন মারুফ মহসিন, যিনি বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সাক্ষাৎকারে দেশের ইস্পাতশিল্প, নির্মাণ খাত, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন।
এ আলোচনা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেইসবুক পেইজে সম্প্রচার করা হয়।
তার সঙ্গে আলাপে উঠে আসে শিল্পগোষ্ঠী রহিম গ্রুপের ব্যবসার নীতি, কৌশল আর আগামী দিনের লক্ষ্যের কথাও।
মারুফ মহসিন বলেন, “লোকসান দিতে হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেও চেষ্টা করে যাচ্ছে এই খাতের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী রহিম গ্রুপ। কেননা দেশের সার্বিক অর্থনীতিকেই টিকে থাকতে হবে, না হলে পুরা ব্যবস্থাই ধসে পড়বে।”

ইস্পাত শিল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের ব্যবসা সবশেষ দেড় বছর ধরেই খুব একটা ভালো অবস্থায় নাই। আমরা তো লস, লস হতে হতে এখন লস লিডার এ চলে গিয়েছি। সো, কে কত লস দিতে পারবে। কিন্তু ওইটার মধ্যেও আমরা চেষ্টা করছি যে, কিছুটা সহনীয়ভাবে কাজ করা, কারণ সার্বিকভাবে অর্থনীতিকে টিকে থাকতে হবে। তা না হলে পুরো ব্যবস্থাই ধসে পড়বে।
“তো সেটার (টিকে থাকা) জন্য বিগতভাবেও কিছু সহায়তা পেয়েছি আমরা, আশা করছি সামনেও কিছু সহায়তা পাব। আর আমাদের কিছু শিল্প আছে যেটাকে বলে আমদানি বিকল্প, সেটা হলো ফেরোঅ্যালয় (লোহার সঙ্গে অন্যান্য ধাতুর মিশ্রণে তৈরি এক বিশেষ সংকর ধাতু) আছে, তো ওই শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমাদের। তাহলে দেশের পণ্য দেশেই থাকবে।”
স্টিল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের এই নেতা ব্যবসার বর্তমান হালহকিকত সম্পর্কে বলেন, “বর্তমানে সবাই একটু আশাবাদী ছিলাম নির্বাচনের আগে আমাদের বাজার আরও বাড়বে। কারণ আমরা একটি নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় ছিলাম। এটা আমাদের ইচ্ছা ছিল। অ্যান্ড আলহামদুলিল্লাহ অনেকটা কাজ হয়েছে, আরও সামনে কাজ হবে এটা আমরা আশা করছি।”
ইস্পাত শিল্পে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মারুল মহসিন বলেন, “ইস্পাত শিল্পটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ইস্পাত শিল্পে বিদ্যুৎ, গ্যাস আর হল টাকা- এই তিনটি জিনিসই সবচেয়ে বেশি লাগে।“

ব্যবসা চালাতে অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ আমদানির ব্যয় বেড়ে গেছে। দেড় বছরে বেড়েছে গ্যাসের দাম। আবার যদি বাড়ানো হয় তাহলে কতটা শিল্পের জন্য সহনীয় হবে বলা মুশকিল।
“আর সবশেষ সবচেয়ে বড় প্রভাব যেটা পড়ছে বিদ্যুতে। সবশেষ যেটা সবচেয়ে সমালোচনা হচ্ছে, সেটাতে ইতিমধ্যে আমাদের ব্যয়- কার কত সক্ষমতা সেই অনুযায়ী, আমাদেরটা ইতিমধ্যে প্রতিটনে বেড়ে গিয়েছে দুই থেকে চার হাজার টাকার মতন।”
ইস্পাত খাতের এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ইস্পাত শিল্পের এ চলমান চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করে তুলে ধরতে চান।
নির্মাণ বা আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার প্রভাব ইস্পাত খাতে কতটা পড়ছে- এমন প্রশ্নে মারুফ মহসিন বলেন, “এক কথায় বলব যে যখন আপনার বিক্রি হবে না, তখন কেনা হবে না। তো এটাই যেটা আপনাকে একটু আগে বললাম যে যদি ব্যাকঅ্যান্ডে থেকে সাপোর্টটা না আসতে থাকে, ক্রয় ক্ষমতা সবার বাড়াতে হবে। সেটার জন্য নীতি আনতে হবে, অর্থনৈতিক সংস্কার আনতে হবে। তারপরে সুদহারগুলো দেখতে হবে, ভ্যাটগুলো দেখতে হবে, ট্যাক্সগুলো দেখতে হবে।“
তিনি বলেন, তারাও কিছু চেষ্টা করছেন যাতে খরচ কমানো যায়। আবার মানও রক্ষা হয়।

“সবচেয়ে আগে রহিম গ্রুপ, আমাদের অন্যান্য যে প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁও স্টিলস আছে, ফেরো অ্যালয় আছে, রহিম স্টিল আছে, এসবগুলোর মধ্যে ফার্স্ট থিং আমাদের কোয়ালিটিতে কম্প্রোমাইজ না করে আমরা কী কী করতে পারি। শীর্ষ ব্যবস্থাপনাতেও যখন লাগে যে আমরা মুনাফা, লভ্যাংশ এগুলো কমিয়ে দিই। সো দ্যাট আমরা দিন শেষে ক্রেতাদের সুবিধা দিতে পারি।”
এ খাতে উৎসাহ দিতে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশার বিষয়ে তিনি বলেন, “ভ্যাটহার কমিয়ে দিলে কিন্তু আমরা সরকারের রাজস্ব বাড়িয়ে দেব।“
দাদা ও বাবার হাত ধরে যাত্রা শুরু হওয়া রহিম গ্রুপের মূল দর্শন হল সবার আগে পণ্যের মান।
“সেকেন্ড প্রায়োরিটি হচ্ছে, ইংলিশে বলি- অলওয়েজ পে ইয়োর ডেট। এটা হচ্ছে আমার দাদার দর্শন ছিল। আমার বাবারও দর্শন, আমারও দর্শন। যদি আপনার পিঠ থেকে চামড়াও খুলে, আপনার কারও দেনা থাকে, সেটা দিয়ে আপনি যাবেন। এই হচ্ছে আমাদের মূল এবং আমরা ইসলামী নীতি অনুসরণ করি। আর সেটার সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামী নীতিতে সব চলে আসে।”