Published : 03 May 2026, 05:26 PM
রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস-এলপিজির দাম এপ্রিলে লাফ দিলেও মে মাসে বাড়েনি। আগের মাসের মতোই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডার মিলবে ১৯৪০ টাকায়।
রোববার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন দর রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরামকোর মে মাসের প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি সিপি অনুযায়ী এ দাম ঠিক করা হয়েছে।
অবশ্য কমিশনের ঠিক করে দেওয়া দামে বাজারে এলপিজি পাওয়া যায় না। ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারে ২১০০ টাকাও বিক্রি হচ্ছে।
বিইআরসি বলেছে, বেসরকারি এলপিজির খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৬১ দশমিক ৭১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর অটোগ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৮৯ দশমিক ৫২ টাকা।
বিইআরসি জানিয়েছে, সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত থাকবে। ২৩ ফেব্রুয়ারির আদেশ অনুযায়ী সরকারি এলপিজির ডিলার বা রিটেইলার পয়েন্টে ১২ দশমিক ৫০ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য ৭৭৬ দশমিক ৯৩ টাকা বহাল রাখা হয়েছে।
এর আগে ১৯ এপ্রিল বিইআরসি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল।
এরও আগে ২ এপ্রিল এপ্রিল মাসের প্রথম সমন্বয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৮ টাকা করা হয়। একই সমন্বয়ে অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৬১ দশমিক ৮৩ টাকা থেকে ৭৯ দশমিক ৭৭ টাকায় ওঠে।
সৌদি আরামকোর ঘোষিত কন্ট্রাক্ট প্রাইস বা সৌদি সিপি বেড়ে যাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছিল।
সে হিসাবে এপ্রিলের শুরু থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দুই দফায় ৫৯৯ টাকা বেড়ে ১৯৪০ টাকায় ওঠে। মে মাসের ঘোষণায় সেই উচ্চ দামই বহাল রাখা হল।
বিইআরসি বলেছে, মে মাসের জন্য সৌদি আরামকো প্রোপেনের দাম প্রতি টন ৭৫০ ডলার এবং বিউটেনের দাম ৮০০ ডলার ঘোষণা করেছে।
প্রোপেন ও বিউটেনের ৩৫:৬৫ অনুপাতে মিশ্রণ ধরে গড় সৌদি সিপি দাঁড়িয়েছে ৭৮২ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার।
সে হিসাবে ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৮৮৯ টাকা, ১২ দশমিক ৫ কেজির ২ হাজার ২১ টাকা, ১৫ কেজির ২ হাজার ৪২৬ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ৫৮৭ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ৯১১ টাকা, ২০ কেজির ৩ হাজার ২৩৪ টাকা, ২২ কেজির ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা, ২৫ কেজির ৪ হাজার ৪৩ টাকা, ৩০ কেজির ৪ হাজার ৮৫১ টাকা, ৩৩ কেজির ৫ হাজার ৩৩৬ টাকা, ৩৫ কেজির ৫ হাজার ৬৬০ টাকা এবং ৪৫ কেজির ৭ হাজার ২৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দাম নির্ধারণের পরও বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ আছে। গত ২৩ এপ্রিল জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারি নির্ধারিত দাম ১৯৪০ টাকা হলেও বাজারে ২২০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।
এই প্রেক্ষাপটে রোববারের বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি আবারও বলেছে, এলপিজি মজুদকরণ ও বোতলজাতকরণ, ডিস্ট্রিবিউটর এবং রিটেইলার পয়েন্টসহ কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত দামের বেশি দামে বোতলের এলপিজি, রেটিকুলেটেড এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না।