Published : 24 Mar 2026, 07:18 PM
উড়োজাহাজের জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক দাবি করে অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
দেশি উড়োজাহাজ মালিকদের সংগঠনটি মঙ্গলবার দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার ঘণ্টা কয়েক পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এক লাফে ৮০ শতাংশ দাম বাড়ানো দেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য অত্যন্ত ‘ক্ষতিকর’ ও ‘অযৌক্তিক’।
এর আগে মঙ্গলবার বিইআরসির এক সভায় চলতি বছরের ৫ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যের গড়, জানুয়ারি-জুন ২০২৬ সময়ের পরিবর্তিত প্রিমিয়াম, ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত বিবেচনায় জেট এ-১-এর দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের মূল্য প্রতি লিটার ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারিত করা হয়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার দশমিক ৭৩৮৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এওএবি এর মহাসচিব মফিজুর রহমান বলেন, “দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে আগমন করেছে এবং এসব তেল পূর্বনির্ধারিত মূল্যে কেনা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিক সময়ে তেলের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় পরিসরে জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
“পাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যেখানে ভারত ও নেপাল জেট ফুয়েলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে, সেখানে পাকিস্তানে ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৮০ শতাংশ।”
এওএবি মনে করে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ভার চাপবে।
একইসঙ্গে জেট ফুয়েলের উপর কর বাড়ানোর ফলে সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে, যা দেশের উড়োজাহাজ চলাচল শিল্পের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
জেট ফুয়েলের দামে বড় উল্লম্ফন, অভ্যন্তরীণ রুটে লিটারে বাড়ল ৮০%