Published : 03 Apr 2026, 10:20 PM
ঈদের সময় তেঁতে ওঠা মাংসের বাজার দুই সপ্তাহ পরও ঠান্ডা হয়নি; গরু-খাসির মাংস আর মুরগি এখনো বিক্রি হচ্ছে ঈদের সময়ের বাড়তি দরে।
শুক্রবার রাজধানীর কয়েটি বাজার ঘুরে দেখা গেল, বিভিন্ন সবজি বিক্রি হচ্ছে রোজার মাসের মতই আগের দরে; যোগান পরিস্থিতিও স্বাভাবিক। তবে মাছের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে খানিকটা বেড়েছে।
রোজার আগে রাজধানীর বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দর প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৮০০ টাকায় ওঠে। পুরো রোজার মাস ওই দামেই স্থির ছিল।
এখনো সেই দর কমেনি। শুক্রবার সেগুনবাগিচা ও যাত্রাবাড়ীর বাজারে ওই দামেই গরুর মাংস বিক্রি হতে দেখা গেল।

ঈদের আগ থেকে গত সপ্তাহ পর্যন্ত রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, যা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।
রোজার শুরুতে একবার ব্রয়লার মুরগির কেজি ২৩০ টাকায় উঠে যায়। পরে সেখান থেকে নেমে রোজার মাঝামাঝি সময়ে ২০০ টাকার নিচে এসেছিল। এখন আবার ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকায়। দেড় মাস আগেও এই মুরগি ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হত।
সেগুনবাগিচা বাজারে ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে সোনালি জাতের মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৪৫০ টাকা; যা গত সপ্তাহেও ৪২০ টাকা ছিল।
মাংসের দর বাড়তি থাকলেও আগের দামে স্থির আছে সবজি। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে- বরবটি, করলা ও ঢেঁড়সের মতো কিছু সবজির দাম কমেছে। টমেটো, শসা, শিম, পেঁপে, পটল ও বেগুন আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে। তবে বেড়েছে ঝিঙার দাম।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের দোকানি সেলিম মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রোজার মাসের মত সবজির দাম একই আছে। কোনোটার দাম বাড়েনি, উল্টো কমছে।”
আগের সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ঢেঁড়স ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সজনে ডাঁটা বিক্রি হচ্ছে আগের মত ৭০ টাকা কেজিতে।
পটল আগের সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা কমে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গোল বেগুন ৫০ টাকা ও লম্বা বেগুন ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন দোকানিরা।
সালাদ সামগ্রীর মধ্যে শসা আগের সপ্তাহে ৫০-৬০ টাকা কেজি থাকলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকায়। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা।
পেঁপে আগের মতই ৩০ টাকা এবং শিম ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। করলা ৮০ টাকা, আলু ২০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
দাম কিছুটা কমলেও বরবটির দর এখনো চড়া। এক সপ্তাহ আগে ১২০ টাকা থাকলেও এখন তা কমে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ঝিঙা, প্রতি কেজি ১২০ টাকা; যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৮০ টাকা। এছাড়া টমেটো ৩০-৪০ টাকা ও গাজর ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, দাম কিছুটা চড়া। সেগুনবাগিচা বাজারে পাবদা মাছ কেজি প্রতি ৩৫০ টাকা, পোয়া ও বাটা মাছ ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রুই মাছের দাম কিছুটা বেড়ে প্রতি কেজি ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২১০ টাকা। এছাড়া চাষের তেলাপিয়া আকারভেদে ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই; আগের সপ্তাহের মতই প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।