Published : 27 May 2026, 09:03 PM
ঈদের আগের দিনে রাজধানীর অন্যতম বড় গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও দুশ্চিন্তার কথা বলেছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যাপারী ও খামারিরা।
হতাশা প্রকাশ করে তারা বলেছেন, বড় গরু ও মহিষের ‘ক্রেতা নেই’। ফলে অবিক্রিত পশু নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে।
বৃহস্পতিবার দেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা, এদিন পশু কোরবানি হবে।
ঈদের আগের দিন বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত গাবতলীর স্থায়ী এই পশুর হাটে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টিতে পুরো হাট জুড়ে থকথকে কাদা। হাটের সীমানা পেরিয়ে গাবতলী মাছের আড়ৎ এলাকা ও রাস্তার পাশে অনেক ব্যাপারী গরু নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। মূল হাটের মধ্যে চলাচলের রাস্তায় কাদা থাকায় অনেক ক্রেতাই ঢুকছেন না। তারা রাস্তাতেই পশু দেখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
ঈদের আগের দিনের হিসেবে কম ক্রেতাই দেখা গেল হাটে। কেনাকাটাও ঢিলেঢালাভাবে চলছে।

ক্রেতারা বলছেন, এবার হাটের শেষ দিন হিসেবে বাজার ‘স্বাভাবিক’ রয়েছে। কোনো ঝামেলা ছাড়া গরু কেনা যাচ্ছে। পশুর দামও খুব একটা চড়া না। তবে হাটের ভিতরে যাওয়ার রাস্তায় কাদা খুবই অস্বস্তিকর।
অন্যদিকে গরুর ন্যায্য দাম না পাওয়ার হতাশার সঙ্গে অবিক্রিত পশুসহ বাড়ি ফেরার দুশ্চিন্তার কথা বলেছেন ব্যাপারীরা।
একাধিক ব্যাপারীর দাবি, হাটে প্রচুর পশু রয়েছে। তবে মাঝারি আকারের বাইরে কোনো গরুর সেভাবে গ্রাহক নাই। এ ছাড়া শেষ দিনে ‘ন্যায্য’ দামও পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি তাদের।
একাধিক খামারিও বলেছেন, অন্য সব বছরের তুলনায় এবার হাটে অনেক বেশি পশু এসেছে। তাই বাজার ‘ঢিলেঢালা’ অবস্থায় চলছে। বড় গরুর বিক্রি এবং দাম কিছুই হচ্ছে না। একই অবস্থা মহিষের ক্ষেত্রে, কোনো ক্রেতা মিলছে না।
কুষ্টিয়ার খামারি মেহের উদ্দিন বলেন, “আমি বাড়িতে দেশি শংকর জাতের ষাঁড় পালন করেছি। দুই বছর লালন-পালন করে সর্বোচ্চ বড় করলাম। ওজন ১৩ মণের বেশি হবে, তাই দাম চাচ্ছি ৪ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু গ্রাহকরা এখনো তিন লাখের খুব বেশি বলেনি।
“এই দামে গরু বিক্রি করা কঠিন। দুই বছর পরিশ্রম করে নিজের জন্য কিছু তো থাকতে হবে। তবে ছোট এবং মাঝারি আকারের গরু ভালোই বিক্রি চলছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খামারি মো. সুমন বলেন, “আমি তিনটা মহিষ নিয়ে এসেছি। তিন দিন ধরে হাটে বসে আছি, হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা আসছে। এর মধ্যে অর্ধেক ক্রেতা দামাদামি করছেন, বাকি অর্ধেকই দাম না শুনেই চলে গেছেন।”

মানিকগঞ্জের মো. মারুফ নামে আরেক খামারি পাঁচটি মহিষ নিয়ে হাটে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমার মহিষের যে আকার তাতে অনায়াসে ৫ লাখ টাকার বেশি দাম হবে। কিন্তু ক্রেতারা ৪ লাখের বেশি দাম বলছেন না। এত কম দিয়ে মহিষ ছেড়ে দেব না।”
হাটে কোরবানির পশু কিনতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী আফজাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি সকালেই এসেছিলাম। হাটের খুব ভিতরে যেতে পারিনি। শুরুর দিকেই কয়েকটা গরু পেয়েছি। দাম স্বাভাবিক থাকায় পছন্দের পশু কিনেছি।”
আব্দুর রহমান নামে আরেক ক্রেতা বলেন, “হাটে আসার পর থেকে বাজার মাঝামাঝি অবস্থায় দেখছি। কেউ দাম খুব বেশি বলছেন, আবার কেউ ন্যায্য দামই চাচ্ছেন। অন্য বছরের তুলনায় এবার বাজারে স্বস্তি রয়েছে।”
ঝিনাইদহের ব্যাপারী আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমি ১০টা গরু নিয়ে আসছি। গত তিন দিনে মাত্র দুইটা গরু বিক্রি করছি। যে দুটো সবচেয়ে ছোট ছিল, দেড় লাখ টাকায় ছেড়ে দিয়েছি। এখনো আটটা গরু বিক্রি হয়নি।”
হাটের প্রবেশ মুখে কথা হয় ব্যাপারী সিরাজ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, “টাঙ্গাইল থেকে চারটা গরু আসছে, নামানোর জায়গা দেখতেছি। তবে হাটে যে পরিমাণ গরু আছে, তাই একটু চিন্তায় আছি বিক্রি হবে কিনা।”
ঈদের আগের দিনেও হাটে যে পরিমাণ পশু আসছে, তাতে আগে আসা ব্যাপারীরা পশু বিক্রি করতে পারবেন কিনা বা দাম পাবেন কিনা তা নিয়ে সন্দিহান তাদের অনেকে। কারণ এখনো হাটে আসা অর্ধেক পশুই বিক্রি হয়নি। তাদের দাবি, যে পরিমাণ গরু আসছে তার সবগুলো অবশ্যই বিক্রি হবে না। তাই অনেককেই অবিক্রিত গরু নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে।