Published : 19 Dec 2025, 09:29 PM
শীতের সবজির সরবরাহ বেড়েছে রাজধানী ঢাকার বাজারগুলোতে। তাতে টমেটো ও করোলা ছাড়া সব ধরনের সবজিতে দাম কিছুটা কমেছে সপ্তাহের ব্যবধানে।
আরো দু’মাসের মত সবজির এমন সরবরাহ থাকার আশা করে গৃহিণী সালমা বেগম কিছুটা স্বস্তি নিয়ে বললেন, ‘‘এই দামে সবজি পাইলেই ভালো। দাম হয়ত আরেকটুক কমবো, না কমলেও টেনশন নাই।’’
মৌসুমের এই সময়ে সর্বনিম্ন ২০ টাকা কেজি দরে নেমেছে সিম, শালগম, এক পিস ফুল কপি। সর্বোচ্চ ৮০ টাকা দরের মধ্যে সব সবজি পাওয়া গেলেও শুক্রবার টমেটো বিক্রি হয় ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে এ দর ছিল ৮০-১০০ টাকার মধ্যে।
শীতের এ সবজি মাসের শুরুতে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে পরের সপ্তাহে কমেছিল কিছুটা। প্রতি কেজি ৮০ টাকায় সপ্তাহখানেক বিক্রি হওয়ার পর পুনরায় দাম বেড়ে যায়।
বিচিযুক্ত সিমের বেলাতেও দাম বাড়ার ঘটনা ঘটলেও তা আবার ৮০ টাকায় নেমেছে। কিন্তু টমেটোর দাম এখনও নাগালে আসেনি।
ঢাকার রায়েরবাগ, শনির আখড়া ও যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে খুচরা পর্যায়ে এমন দরে বিক্রি হচ্ছে নানা জাতের সবজি।
শুক্রবার একটু বেশিই বাজার করে থাকেন গৃহিণী সালমা বেগম। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে রায়েরবাগ বাজারে তিনি বলেন, ‘‘জিনিসপত্রের দাম যাই হোক একটু হাতের মধ্যে থাকলে সমস্যা নাই। একটা না একটা কম দামে পাওন যায় তহন। যেডার দাম বেশি হেইডা না হয় পড়ে খাইলাম। এহন যা দাম, তাতে কৃষকও বাঁচবো, দোকানিরও লাভ-আমরাও একটু খাইতে পারুম।’’

অবশ্য পেয়াঁজের বাজারে খুব একটা সুখবর আসেনি। যাত্রাবাড়ী বাজারে মুড়ি কাটা পেয়াঁজের দাম ১০ টাকা কমে ৫০ টাকা, পেয়াঁজ পাতা এক মুঠো বিক্রি হয় ২০ টাকায়।
দোকানি আবুল কাশেম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এক কেজি দেশি পেয়াঁজ ১৩০ টাকা কেজি। ভারতীয়টা বিক্রি করছেন ১০০ টাকা কেজি দরে।
আগের সপ্তাহে দেশি সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা ও আমদানি পেয়াঁজ সর্বোচ্চ ৮০-১০০ টাকা দরে বেচেছেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার দরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে দেশি পেয়াঁজ বিক্রি হয় ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১০০-১১০ টাকা দরে।
শনির আখাড়া কাঁচাবাজারে ঢেঁড়স ও পটল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন দোকানি মোহাম্মদ রাসেল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, এক কেজিতে ১০ টাকা কমছে এক সপ্তাহে।
যাত্রাবাড়ীতে প্রতি কেজি গোলবেগুন ৭০ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ টাকা ও চিকনটা বিক্রি হয় ৩০ টাকা দরে। আগের সপ্তাহে যা ছিল যথাক্রমে ১০০, ৬০ ও ৪০ টাকা।
কয়েক ধরনের সিম বাজারে আসায় প্রতি কেজি ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিচিযুক্ত সিম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৮০ টাকা। আগের সপ্তাহেও একই দর ছিল।
যাত্রবাড়ীতে ক্রেতা আওলাদ হোসেন টিটু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘শুক্রবার সকাল সকাল আসি বাজার করতে। ছাত্রনেতা হাদির ঘটনা শোনার পর তো সব রাস্তা বন্ধ হইয়া গেল। টেনশনে ছিলাম, মাছের ট্রাক ঢুকতে পারব কি না, তাই দেরি করে আসছি।
‘‘সবজি-টবজি তো পাওয়া গেল। মাছ কিনতেও সমস্যা হয় নাই। আড়তওয়ালারা লোকসান থেকে বাঁচলো, নইলে তো সমস্যায় হয়ে যাইত।’’
যাত্রাবাড়ীতে দাম কমে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১২০ টাকা। নতুন আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন কাজলা বৌ বাজারের দোকানি রাজিব হোসেন। আগের সপ্তাহের দর ছিল ৮০ টাকা।
এছাড়া বাঁধাকপি প্রতিটি ২০ টাকা, ফুলকপি ২০ টাকা, করোল্লা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয় এ বাজারে। একই দরে পেপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।
যাত্রাবাড়ীতে প্রতি কেজি রুই মাছ ২০ টাকা কমে শুক্রবার বিক্রি হয় ৩১০ টাকায়। তেলাপিয়ার দর ১০ টাকা কমে ২১০ টাকা, পাঙ্গাস ২০ টাকা কমে প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রর কথা জানিয়েছেন বিক্রেতা তৈয়ব আলী।
এ বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা দরে অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম না বেড়ে আগের সপ্তাহের মত শুক্রবারও প্রতি হালি ডিম বিক্রি হয় ৪০ টাকা দরে।