মানি এক্সচেঞ্জে নগদ ৫০ লাখ টাকার বেশি নয়

এর আগে টাকা সংরক্ষণের কোনো সীমা ছিল না।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Nov 2022, 03:35 PM
Updated : 10 Nov 2022, 03:35 PM

খোলা বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার দৈনন্দিন লেনদেন শেষে একটি মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ নগদ টাকা ও ডলার রাখতে পারবে সেই সীমা ঠিক করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা (এফসি) হিসাবে কত ডলার জমা রাখা যাবে সেটিও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যবসা পরিচালনার অংশ হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার জন্য দৈনিক ৫০ লাখ টাকার বেশি নগদ রাখতে পারবে না কোনো মানি একচেঞ্জ কোম্পানি।

এর বেশি নগদ টাকা জমা হলে তা কোম্পানির চলতি হিসাবে জমা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে টাকা সংরক্ষণের কোনো সীমা ছিল না মানি চেঞ্জারদের।

অপরদিকে কোনো মানি চেঞ্জার দিন শেষে নিজেদের কাছে ২৫ হাজার ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রাখতে পারবে নগদ আকারে।এর চেয়ে বেশি রাখতে পারবে না। এর বেশি বৈদেশিক মুদ্রা মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকে থাকা তার বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে (এফসি হিসাব) জমা রাখতে হবে। পরে তা প্রয়োজন আকারে তুলতে পারবেন তারা।

এ বিষয়ে মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হেলাল শিকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘নগদ টাকা রাখার সীমা র্নিধারণ করে দেওয়াটি নতুন সিদ্ধান্ত। কিন্তু ২৫ হাজার ডলারের বিষয়টি আগে থেকেই রয়েছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১ লাখ ডলার রাখতে পারার অনুমোদন চেয়েছিলাম।’’

অন্তত ৫০ হাজার ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রাখার অনুমোদন দিলে ব্যবসা পরিচালনায় উপকার হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অপরদিকে এফসি হিসাবে কত বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে সেই সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ হিসাবে কোনোভাবে ৫০ হাজার ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে না।

অর্থাৎ এফসি হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখতে পারলেও যেকোনো সময়ে ৫০ হাজার ডলারের বেশি হতে পারবে না। এমন ক্ষেত্রে কোনো মানি চেঞ্জার চাইলে তা ব্যাংকের কাছে বিক্রি করে দিতে পারে।

মানি এক্সচেঞ্জগুলোর ডলার সংগ্রহের মূল উৎস বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা। তারা কাগুজে মুদ্রা বেচাকেনা করে থাকেন।

বর্তমানে দেশে অনুমোদিত ২৩৫টির বাইরে অনুমোদন ছাড়াই আরও ৭০০টির মত মানি চেঞ্জার কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অস্থির হয়ে ওঠা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের দর খোলা বাজারে ১২১ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এক বছর আগেও যা ছিল ৯০ টাকার ঘরে।

ওই সময়ে ডলারের দর নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে দেড় শতাধিক মানি এক্সচেঞ্জে অভিযানে নেমে বাংলাদেশ ব্যাংক ডজন খানেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করে।

বৃহস্পতিবার খোলা বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১১৩ থেকে ১১৪ টাকা দরে।

Also Read: ওয়াসার তাকসিমের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চায় বিএফআইইউ

Also Read: এবার মানি এক্সচেঞ্জের ডলার বিক্রির সীমা নির্ধারণ

Also Read: বিক্রির চেয়ে কিনতেই বেশি আগ্রহ মানি এক্সচেঞ্জের

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক