ক্রয় ব্যবস্থায় এআইভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চায় টিসিবি
ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহীতে টিসিবি ‘মডেল স্টোর’ স্থাপন করবে বলে তথ্য দিয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ।
সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে ‘আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক’ করতে এআইভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
এতে ক্রয় প্রক্রিয়ায় খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে আশা করছে সরকারি সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে টিসিবির কার্যক্রম মূল্যায়ন শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব আলোচনা উঠে আসে।
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে ‘আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক’ করতে এআইভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে টিসিবি।
একইসঙ্গে ব্যয় প্রাক্কলন আরও বাস্তবসম্মত করা, দরপত্রে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডকে অন্যান্য সরকারি সেবার কার্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছে সংস্থাটি।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে টিসিবি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির ক্রয় ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও তথ্যনির্ভর হওয়া প্রয়োজন।”
তার ভাষ্য, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় ও চূড়ান্ত চুক্তিমূল্যের মধ্যে ব্যবধান যত কম হবে, ততই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও ব্যয় নির্ধারণের দক্ষতা প্রতিফলিত হবে।
এ জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার, প্রতিবেশী দেশের মূল্যপ্রবণতা এবং অতীতের বাজার তথ্য বিশ্লেষণ করে আরো নির্ভুল ‘আনুমানিক মূল্য’ প্রস্তুতের নির্দেশনা দেন তিনি।
সচিব বলেন, “বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় এআইভিত্তিক বিশ্লেষণ যুক্ত করার লক্ষ্যে একটি কনসেপ্ট নোট প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, টিসিবি, অর্থ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”
টিসিবির চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ বলেন, টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডকে অন্যান্য সরকারি কার্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য পণ্যের বাস্কেটে আরও প্রয়োজনীয় পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহীতে টিসিবি ‘মডেল স্টোর’ স্থাপন করবে। এছাড়া পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলে তথ্য দেন ফয়সল আজাদ।
এই ব্যবস্থা চালু হলে কার্ড স্ক্যানের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে টিসিবির ভর্তুকিপ্রাপ্ত পণ্যের সঙ্গে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রির বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক; ভোক্তাদের জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
