Published : 22 May 2026, 09:06 PM
সবজির বাজারে ওঠানামা খুব একটা নেই; আর ডিম, মাছ ও মাংসের বাজারে উত্তাপ রয়ে গেছে।
স্বস্তি বলতে, কোরবানির ঈদকে ঘিরে রান্নার আবশ্যকীয় উপকরণ পেঁয়াজের দরটা বাড়েনি।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের সপ্তাহের দর, ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। গত প্রায় এক মাস ধরেই পেঁয়াজ এই দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগ কাঁচাবাজারে পাবনার পেঁয়াজ তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। দেখতে চকচচকে ও মসৃণ এ পেয়াঁজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের বিক্রেতা রুহুল কবির বিডিনিউজে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাবনার পেঁয়াজের দাম সবসময় বেশি থাকে। এখন আসছে, তাই দাম বেশি।”
রাষ্টায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির দৈনিক বাজার দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এই সময়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দর উঠেছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
জ্যৈষ্ঠের প্রথম সপ্তাহে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে আগের দরেই। বাজারে সরবরাহ থাকায় শুক্রবার সবজির দরে খুব একটা ওঠানামা হয়নি।
রাজধানীর শনির আখাড়ায় কাঁচাবাজারের বিক্রেতা শাহ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঝিঙা আর ধুন্দল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি।
একই দরে কাঁচা পেঁপে বিক্রির কথাও বলেছেন তিনি। আগের সপ্তাহেও একই দরে সবজির এই পদটি বেচাকেনা হয়। গেল দুই মাস ধরেই ৩০ টাকা কেজির সবজিটি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শনির আখড়া বাজারে হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা ও দেশি জাতের শসা ৭০ টাকা, গোল বেগুন ও চিচিঙ্গা বিক্রি হয় ৮০ টাকা কেজি দরে। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকা। এক সপ্তাহে এ তিন পদের সবজির দরে কোনো ফেরফের হয়নি।

মাঝারি আকারের প্রতিটি লাউ সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে বিক্রি হয় ৪০ টাকা দরে। বাজারে উঠা নতুন চাল কুমড়াও এই দরে বিক্রির তথ্য দেন বিক্রেতা শিয়াব উদ্দীন।
এ বাজারে ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে, আগের সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা। দুই সপ্তাহ ধরেই কমছে সবজিটির দর।
মৌসুম শেষ হওয়ায় টমেটোর দর চড়েছে আগেই, শুক্রবারও ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে এই সবজিটি। একইভাবে আগের সপ্তাহের দরে পটল বিক্রি হয় ৬০-৭০ টাকা কেজিতে।
কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমে যাত্রাবাড়ীতে বরবটি বিক্রি হয় ৬০ টাকায়। কাঁচা মরিচ গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ টাকা কমে কেজিপ্রতি বিক্রি হয় ৮০ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকায় উঠেছিল কাঁচামরিচের দর।

এ বাজারে করলা আগের দরে ৬০ টাকা, কাকরোল ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আমদানি করা গাজর বিক্রি হয় ১৮০ টাকা কেজি দরে।
প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। আর পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে করে প্রতি কেজি ডায়মন্ড জাতের আলু ৬ কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। গত কয়েক মাস ধরেই এ দরে আলু বিক্রি হচ্ছে।
সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে আগের মত প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয় ৮০০ টাকা। কোনো কোনো মহল্লায় ৮২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়।
যাত্রাবাড়ী ও সেগুনবাগিচায় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি আগের দর ১৮০ টাকা ও সোনালী মুরগি ৩৪০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। গত দুই সপ্তাহে মুরগির মাংসের দর একই জায়গায় রয়েছে।
যাত্রবাড়ীতে খাসির মাংস প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা ও ছাগলের মাংস বিক্রি হয় ১ হাজার ১০০ টাকায়।
আগের সপ্তাহের মত প্রতি ডজন ডিম ১৪০ টাকা ও এক হালি ডিম খুচরা পর্যায়ে ৫০ টাকায় বিক্রি জয়। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে ডজন ১৫০ টাকা দরেই ডিম বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে কার্প জাতীয় মাছ (কমন কার্প, সিলভার কার্প ইত্যাদি) প্রতি কেজি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহে ছিল ১৫০ টাকা কেজি।
অন্যদিকে এ বাজারে মাঝারি গড়নের তেলাপিয়া ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। বড় আকারেরটা আগের দর, ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে আগের সপ্তাহের মতো মলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি দরে। তুলনামুলক ছোট মলা মাছ যাত্রাবাড়ীতে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছিলেন টিটু মিয়া।

এ বাজারে আগের দরে পাঙ্গাস ১৭০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি, বাটা মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা ও সরপুঁটি ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছ আকার ভেদে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।
শনির আখড়া বাজারে চাষের পাবদা আগের দর, ৪০০ টাকা কেজি ও মুক্ত জলাশয়ের পাবদা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আগের সপ্তাহের মতো টেংরা বিক্রি হয় ৫০০ টাকা কেজি দরে।