Published : 04 Jun 2026, 12:51 AM
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরির শঙ্কার কথা তুলে ধরে ডি-৮ জোটভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে সোমবার ‘বাকু অ্যানার্জি ফোরাম ২০২৬’-এর মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনে তিনি এ আহ্বান জানান।
বুধবার মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে টুকু বলেছেন, “বাংলাদেশের আমদানি করা এলএনজির বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। এ রুটে চলমান বিঘ্ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি কার্গো বাতিল বা সরবরাহ না হলে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হয়।
“উচ্চমূল্যের এলএনজি ও জ্বালানি তেল কেনা সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি করে এবং দেশের শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।”
নাম ‘ডি-৮’ বা ‘ডেভলপিং-৮’ হলেও উন্নয়নশীল মুসলিম প্রধান দেশগুলোর এই অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোটের সদস্য সংখ্যা ৯। বাংলাদেশ ছাড়াও এই জোটের সদস্য দেশগুলো হলো- মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং আজারবাইজান।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অনিশ্চয়তার সময়ে ডি-৮ ভুক্ত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহায়তা ও জ্বালানি সংহতির কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ডি-৮ আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন টুকু।
তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশ এককভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। সহযোগিতা জোরদার হলে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও সহনশীলতা বাড়বে।”
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিয়ে সরকার গত মাসে অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ চালু করেছে। নভেম্বর পর্যন্ত চলা এ দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে আর্থিক ও বাণিজ্যিক শর্ত হালনাগাদ করা হয়েছে।”
গত ২৪ মে পেট্রোবাংলা অফশোর বিডিং রাউন্ড ঘোষণা করে। এতে ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লক ও ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
আজারবাইজানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘বাকু অ্যানার্জি উইক ২০২৬’-এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ডি-৮ ভুক্ত আট দেশের জ্বালানি মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে হাইড্রোকার্বন, জ্বালানি রূপান্তর এবং জ্বালানি সংযোগ বাড়াতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।