Published : 09 Feb 2026, 09:21 PM
অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) আওতায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ায় বাংলাদেশের ৯৮টি সেবাখাতে জাপানের বড় বিনিয়োগ আশা করছে সরকার।
এর বিপরীতে খুব বেশি রাজস্ব কমার আশঙ্কা নেই বলেও মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সোমবার বিকালে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাপানের সঙ্গে ইপিএ চুক্তি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
জাপান সফরকালে গত শুক্রবার দেশটির সঙ্গে ইপিএ সই করে বাংলাদেশ। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের জন্য ১২০টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে জাপান। এর বিপরীতে বাংলাদেশ ৯৮টি সেবাখাতে জাপানকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে।
এ চুক্তিতে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, জাপানের বিনিয়োগের ফলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর হবে। একই সঙ্গে দেশটি চিকিৎসক, প্রকৌশলীর মত দক্ষ জনশক্তির পাশাপাশি নার্স ও কেয়ারগিভার নেবে।
এ চুক্তির কারণে বাংলাদেশ যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং তা থেকে সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা যে ১,০৭০টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছি, এটার আমাদের রাজস্বের পরিমাণ ২০ কোটি টাকার নিচে প্রতি বছরে।
“জাপান আমাদের জন্য ১২০টি সেবা খাত উন্মুক্ত করেছে। আমরা ৯৮টি সেবাখাত উন্মুক্ত করতে পেরেছি আগে যেখানে শুধু ৫ তারকা হোটেল ও মোবাইল ফোনের দুটি খাত উন্মুক্ত ছিল। এক্ষেত্রে আমরা আশা করছি জাপানের ভালো বিনিয়োগ পাবো।"
এসময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান যোগ করেন, “এরইমধ্যে শূন্য শুল্ক আছে অনেক পণ্যে। যেমন খাদ্য পণ্য বা তুলা ও সুতা। মেশিনারিজে আছে ১ শতাংশ। এই দুটো মিলিয়ে আমরা এক হাজার ৩৯টি দিয়েছি। কাজেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তেমন কোনো রাজস্ব হারাচ্ছি না।"
দীর্ঘদিনের বন্ধু ও বাণিজ্যিক অংশীদার জাপান এবং উন্নত কোনো দেশের সঙ্গে করা প্রথম এ ইপিএ চুক্তির আওতায় দেশটিতে ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বলে তুলে ধরেন তিনি।
“আমরা আরও কিছু পণ্যে তাদেরকে প্রবেশাধিকার দেব। এই প্রবেশাধিকারেগুলো ৫ থেকে ১৫ বছরে ধাপে ধাপে।”
চুক্তিতে তৈরি পোশাক পণ্যের বিষয়ে বিশেষ দিক থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পোশাক পণ্যের ক্ষেত্রে আমরা এখনো শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাই। এই চুক্তির পরও আমরা এক ধাপ মূল্য সংযোজন করে আমরা রপ্তানি করতে পারবো, যেটা আগেও পেয়েছি। কাপড় আমদানি করে পোশাক তৈরি করে রপ্তানি করা যাবে।"
সচিবের দাবি, এটা সুবিধাজনক একটি চুক্তি হয়েছে। অনেকগুলো বিষয়ে সহজ শর্তে সুবিধা নেওয়া গেছে, যাতে দুদেশের মধ্যে ব্যাবসা-বাণিজ্য বাড়বে এবং জাপানের বিনিয়োগ বাড়বে।
"জাপানের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনেই এটি ওঠার কথা এবং সেখানে অনুমোদিত হলেই এটা কার্যকর হয়ে যাবে। আমাদের দিক থেকে তাড়াহুড়ো নেই এই কারণে যে, আমরা এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে এখনই এই সুবিধা পাচ্ছি।"
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন বলেন, "দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত হতে হয়। এই উদ্দেশ্যে ২০২৬ সালের নভেম্বরে (এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর) মার্কেট প্রবেশাধিকারে যে ব্যত্যয়গুলো তৈরি হতে পারে সেগুলোকে আমলে নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সকলে মিলে একটা চুক্তি করতে পেরেছি।”
এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির উদারীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হল, যোগ করেন তিনি।
রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি
নির্বাচনের দিন কয়েক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও শুল্ক চুক্তি সই করছে সরকার। সোমবার রাতে তা সই হওয়ার কথা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন উপদেষ্টা। মঙ্গলবার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা বলেন তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, "নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যদি ধর্মঘট অব্যাহত থাকে, তবে রোজার বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তবে আশা করছি, নির্বাচিত সরকার বন্দর সচল রাখতে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।"
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্যকে উদার করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা যদি সক্ষমতা বাড়াতে না পারলে তাহলে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরির শঙ্কাও প্রকাশ করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
জাপানের সঙ্গে ইপিএ সই, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশের ৭,৩৭৯ পণ্য