Published : 09 Jun 2025, 12:23 AM
সরকার ঘোষিত দরেই লবণযুক্ত চামড়া লেনদেন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেছেন, “আমাদের সমস্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ মাঠ প্রশাসনের সাথে এবং আমরা জাতীয় পর্যায়ে একটা কন্ট্রোল রুম করেছি; যেখানে আমাদের ২৪ ঘণ্টা এই চামড়ার মনিটরিংয়ের কাজ করছে।
“অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি, যে চামড়ার মূল্য পাওয়া যাচ্ছে লবণ দেওয়া; সেটা সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।”
রোববার রাতে পুরান ঢাকার পোস্তায় কোরবানির চামড়ার বাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
কোরবানির মৌসুমে ফড়িয়াদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া কিনে সেগুলোতে লবণ মিশিয়ে সংরক্ষণ করেন আড়তদাররা। এরপর তারা চামড়া বেচেন ট্যানারিতে।
লবণযুক্ত চামড়ার তুলনায় লবণহীন চামড়ার দরে এবার যে পার্থক্য দেখা গেছে, তাতে পথে বসার কথা বলেছেন অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী। চট্টগ্রামে ‘উপযুক্ত দাম’ না পেয়ে তাদের ফেলে দেওয়া বিপুল পরিমাণ চামড়া সড়কেই নষ্ট হয়েছে বলে খবর এসেছে।
বশিরউদ্দীন বলেন, “কিছু কিছু ক্ষেত্রে সোশাল মিডিয়া এবং কিছু মেইনস্ট্রিম মিডিয়াও ভুল তথ্য প্রচার করছে। চামড়া পচে গিয়েছে। আমরা চিটাগংয়ের একটা তথ্য দেখলাম, যেখানে দেখাচ্ছে… আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে চিটাগংয়ের যে বিভাগীয় প্রধান তার সাথে আলোচনা করে দেখেছি, একজন ব্যবসায়ী ৬২০টা চামড়া রাঙ্গুনিয়া নিয়ে এসেছেন।
“এবং চামড়াটা উনি কোনোরকম সংরক্ষণ উপযোগী করেনও নাই; আধা পচিয়ে ফেলেছেন। এই চামড়া কে নেবে? এই চামড়া, এটা দিয়ে দেশে একটা অপপ্রচার চালানো এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সাথে একত্রিত হয়ে চামড়ার বাজারকে আবার একটা ধস নামানোর একটা পরিকল্পনা ছাড়া কিছুই না।”
বাংলাদেশে সারা বছর যে সংখ্যক পশু জবাই হয়, তার মোটামুটি অর্ধেক হয় এই কোরবানির মৌসুমে। কোরবানি যারা দেন, তাদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া কিনে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন পাইকারদের কাছে।
পাইকাররা সেই চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজটি সেরে বিক্রি করেন ট্যানারিতে। ট্যানারি কেমন দামে চামড়া কিনবে, তা প্রতিবছর নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ট্যানারি ব্যবসায়ীদের এবার ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনতে হবে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়; গত বছর এই দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। আর ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম হবে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, গতবছর যা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ছিল।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “প্রথম কথা হচ্ছে যে- আমরা যে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম, সেটা লবণ সহ। দ্বিতীয়ত হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা চামড়া বিক্রি হচ্ছে; এই ৭০০-৮০০ টাকায় চামড়া বিক্রি বিগত বহু বছরের থেকে দাম বেশি।
“বাট এই কথাটা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সত্য এবং এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসত্য। অসত্য এইজন্য যে কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী যাদের চামড়া সম্পর্কে কোনো ধরনের কোনো অভিজ্ঞতা নেই; তারা চামড়া নিয়ে আধা পচা করে ফেলছে।এই আধা পচা চামড়া ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হওয়া তো অনেক বেশি।
“আর যেটা ভালো চামড়া এটা ১২০০-১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে অলরেডি। এবং আমরা আশা করি যে, আমাদের যে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় আমরা যে কাজটা শুরু করি- এই কাজে আমরা স্থানীয়ভাবে মজুদ এবং লবণ দেওয়াকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে চামড়া সংরক্ষণ উপযোগী এবং মজুদ উপযোগী করেছি।
“যার ফলে বাজার ব্যবস্থাপনায় একটা স্থিতি এবং বাজার যেন একটা চাহিদা এবং সরবরাহের ভিতরে একটা সামঞ্জস্যতা তৈরি হয়।”

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে, সরকার খুবই উদারভাবে লবণ দিয়েছে; কিন্তু সমস্ত দায় যদি সরকারের উপরে দেওয়া হয়, আপনি যদি আপনি আপনার কর্তব্য পালন না করেন; তাহলে তো এটা আকাঙ্ক্ষা করাটাও শোভনীয় নয়। আপনাকে তো নিজস্ব সরকার যে সক্ষমতা তৈরি করার ক্ষেত্রে যে উদ্যোগ এবং যে বিনিয়োগটা নিয়েছে আপনাকে তো আগায় আসতে হবে।
“আপনি আগায়ে এসে লবণ লাগিয়ে আপনার উপযুক্ত দাম চান। আমি আশা করি সরকার যে নির্দিষ্ট মূল্য করেছে, আমি আশা করি তার থেকে আরও বেশি মূল্যে চামড়া বিক্রি সম্ভব।”

এক সাংবাদিক জানতে চান, চামড়া ভালো দামে লেনদেনের কথা বলা হলেও বাস্তবতা কি তাই বলছে?
জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “এটা হাফ অব দা স্টোরি, আপনি ফুল স্টোরি বলেন। আমরা যে কন্ট্রোল সেন্টার খুলেছি, সেখানে আমরা দেখছি চামড়ার দাম বাড়ছে এবং আরও বাড়বে। আপনার কথাতে তো প্রকাশিত হয়েছে যে, গতকাল যে দামে চামড়া বিক্রি হয়েছে, আজকে তার থেকে বেশি এবং আমরা আশা করছি, আগামীকাল আরও বাড়বে।
“আমরা তো বলেইছি যে, আমরা সক্ষমতা তৈরি করেছি, যার বিনিময়ে দুই থেকে তিন মাস চামড়া ধরে রাখতে পারব। আপনি ধরে রাখেন। ধরে রেখে উপযুক্ত মূল্য না পাওয়া পর্যন্ত চামড়া বিক্রি করেন না। মূল্য হচ্ছে চাহিদা-যোগানের একটা সমন্বয়। আপনি মূল্যকে আকাশ থেকে ধরে নিয়ে একটা মূল্য দিতে পারবেন না।”
চট্টগ্রামে হাজার হাজার চামড়া নষ্ট হলো কেন?
সারা দিন খেটে কাঁচা চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের 'মাথায় হাত'