Published : 21 Oct 2025, 09:56 PM
দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি স্থাপনায় নেট মিটারিং পদ্ধতিতে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল বসিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নতুন করে ১৪৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
মঙ্গলবার ঢাকার বিদ্যুৎ ভবনে এ সংক্রান্ত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবরা চুক্তিতে সই করেন।
এ চুক্তির আওতায় জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় ছয়টি মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ৪৬ হাজার ৮৫৪টি নিজস্ব সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে ১৪৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
বিদ্যুত ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান অনুষ্ঠানে বলেন, “ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিদ্যুৎ গ্রিডে আনতে হবে। যেসব বিতরণ কোম্পানি ফেইল করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা দিয়ে কর্মকর্তার পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। কোনো কর্মকর্তার অসহযোগিতা করলে জানাবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব।”
উপদেষ্টা বলেন, “দেশে প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে। প্রতিনিয়ত দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। বছরে গড়ে দৈনিক উৎপাদন ২০০ মিলিয়ন কমছে। আমরা গত ৬ মাসে মাত্র ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন বাড়াতে পেরেছি।
“ঘাটতি মেটাতে এলএনজি আমদানি করছি যা, খুবই ব্যয়বহুল। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির অবকাঠামো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বছরে সর্বোচ্চ ১১৫ কার্গো এলএনজি কার্গো খালাস করা যায় যার মধ্যে ১০৮ কার্গো চলে এসেছে। আর মাত্র ৭ কার্গো আনা যাবে।”
তিনি বলেন, “এই সংকট থেকে মুক্তির উপায় হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এই কর্মসূচি আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন, সফল করতেই হবে। ব্যাটারি থাকবে না, গ্রিড কানেক্টেড হবে, যে কারণে ব্যয় কম হবে। ৩ হাজার মেগাওয়াট যদি পাই, ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ চালাতে হবে না।”
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ অনুষ্ঠানে বলেন, সারাদেশে ‘খ’ শ্রেণির তালিকাভুক্ত ৪৬ হাজার ৮৫৪ টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৩ কোটি ৮ লাখ বর্গফুট জায়গা রয়েছে। এসব ছাদে ১৪৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, ডিসেম্বরের আগেই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, “বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে স্থান নিশ্চিত করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।”
অর্থায়ন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, “আমরা দরপত্র আহ্বান করছি, দরদাতারা বিনিয়োগ করবে। যারা কম দরে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তাব করবে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। দরদাতাকে অর্থায়ন করবে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিভিন্ন অর্থায়নকারি প্রতিষ্ঠান। গ্রিন ফাইন্যান্স তহবিলের আওতায় কম সুদে ঋণ পাওয়ার বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে আলাপ হয়েছে।”