Published : 05 Jun 2026, 11:07 PM
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামে ওই ঘটনার পর সেখানে পুলিশ পরিদর্শন করেছে বলে হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আবদুল গাফফার নামে সেই ছাত্রদল নেতার অভিযোগ, স্থানীয় এমপি আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে কথা বলায় এনসিপি কর্মীরা আক্রমণ চালিয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ‘সাজানো নাটক’ বলছেন হান্নান মাসউদ।
আবদুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি হাতিয়ার দেইল গ্রামের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে।
ওসি কবির হোসেন বলেন, গাফফারের গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। সেটির দক্ষিণ পাশে অন্ধকার। ওইদিক থেকে কেউ একজন ঢিল মারলে জানালার অংশ বিশেষ ভেঙে গেছে।
“কে মারছে কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।”
ঘটনার পরপরই হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সাগরিয়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি তোলেন তারা।
ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফার বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমিই হান্নান মাসউদকে সেইফ করছি। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে প্রতিষ্ঠিত করছি। যার কারণে হান্নানের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে। তার রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে ৫ অগাস্টের (২০২৪ সালের) পর দেড় মাস আমি তার সঙ্গে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি।
“৫ অগাস্টের পর তিনি (হান্নান) নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন এতে আমি বাধা দেই।”
বিষয়টি নিয়ে বুধবার গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনের ফেইসবুক পোস্টের কথা তুলে ধরে গাফফার বলেন, “তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেইসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসুদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তার অনুসারীরা আমাকে ফেইসবুকে নানা রকম হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদকে বিষয়টি জানালে ওইসব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই বলে পাশ কাটিয়ে যান।”
গাফফারের অভিযোগ, “হামলাকারীরা একটি জানালা ভাঙচুর করে, প্রধান ফটকে হামলা করে। পরবর্তীতে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়।”
অভিযোগের বিষয়ে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। সেগুলো সামলে উঠতে পারি না। এটি পুরোপুরি সাজানো নাটক, যাতে করে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক কী করতে পারে।”
হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন হাতিয়া থানার ওসি।