Published : 19 May 2026, 08:53 PM
মোবাইল ব্যাংকিং হিসেবে পরিচিত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) ব্যক্তিক হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ এর মাধ্যমে অর্থ আনার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এখন থেকে অন্যের কার্ড (ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড) থেকে এমএফএস অ্যাকাউন্টে টাকা নেওয়ার বেলায় সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা টোকেন লেনদেন করা যাবে। এ লেনদেন সফল হওয়ার পর ওই কার্ড এমএফএস হিসেবে যুক্ত হবে এবং এর ২৪ ঘণ্টা পর নিয়মিত লেনদেন করা যাবে।
আগামী ১ অগাস্ট থেকে এ নিয়ম কারর্যকর হবে বলে মঙ্গলবার এক সার্কুলারে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সাম্প্রতিক সময়ে এমএফএস অ্যাকাউন্টে কার্ড থেকে টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জালিয়াতি হওয়ায় বাড়তি এ সতর্কতা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই কার্ড থেকে এমএফএস হিসেবে টাকা লেনদেন নিরাপদ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতের পর নিয়মিত লেনদেন করা যাওয়ার কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা।
অপরদিকে এমএফএসের ব্যক্তিক অ্যাকাউন্টে নিজের কার্ড থেকে ‘অ্যাড মানির’ ক্ষেত্রে ওই এমএফএস হিসাব কার্ড ধারীর নামে নিবন্ধন নিশ্চিত হলে টোকেন লেনদেনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
এমএফএসের এমন লেনদেনের নতুন এ সার্কুলার ব্যাংক ও এমএফএস কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখন থেকে অ্যাড মানির মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর ‘মার্চেট পেমেন্ট’ এর বদলে ফান্ড ট্রান্সফার হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড থেকে এটি বিনে মাশুলে হলেও ক্রেডিট কার্ডের বেলায় গ্রাহক ভেদে ১ থেকে ২ শতাংশ হারে ফি কেটে নেয় কার্ডসেবা দাতা প্রতিষ্ঠান।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, এমএফএস অ্যাকাউন্টে কার্ড থেকে অ্যাড মানির ক্ষেত্রে লেনদেন সংঘটিত হওয়ার সময়ে এমএফএস হিসাবটি কার্ডের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটির কাছে দৃশ্যমান হতে হবে। আগামী ৩১ জুলাইয়ের এ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে ১ অগাস্ট থেকে কার্ড হতে এমএফএফ হিসেবে অ্যাড মানি বন্ধ থাকবে।
প্রতারণা ঠেকাতে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের অজ্ঞাতে তাদের কার্ড থেকে প্রতারক চক্রের দ্বারা বিভিন্ন এমএফএস হিসেবে ‘অ্যাড মানি’ করে অর্থ স্থানান্তর করার অভিযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। যেজন্য এমন এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘এছাড়া বর্তমান ব্যবস্থায় কার্ডসেবাদাতার নিকট বেনিফিশিয়ারি-এমএফএসধারী সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকে না। ফলে ভুল লেনদেন বা জালিয়াতি হলে কার্ড থেকে টাকা কোন এমএফএসধারীর হিসাবে গিয়েছে সেটি কার্ড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জানা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সার্কুলার বাস্তবায়িত হলে সামগ্রিকভাবে 'অ্যাড মানি' এর মাধ্যমে সংঘটিত জালিয়াতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।’’