Published : 08 Jun 2026, 09:19 PM
ই-জিপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সুবিধাভোগী ঠিকাদাররা এখনো সরকারি কাজ পাচ্ছে বলে সংসদে অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রেক্ষাপটে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনার কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিসের ওপর আলোচনায় নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, “ই-জিপিতে অনেক ঠিকাদার কাজ পেয়ে যাচ্ছেন, কারণ আগের সরকারের সময়ে বিপুল পরিমাণ কাজ করায় তাদের প্রোফাইল শক্তিশালী। তারা পর্দার আড়ালে থেকে কাজগুলো পেয়ে যায়। পরে তিন-চার ধাপে বিক্রি হয়ে কাজ স্থানীয় পর্যায়ে আসে। লাভের জন্য তখন নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হয়।”
আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও বলেন, “আমরা সবাই এই সমস্যায় ভুগছি।”
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “এই বিষয়গুলো আমরা অবগত আছি এবং আমরা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। আমরা এই আইনটা কীভাবে রিভিউ করে সঠিক লোকেরা যেন সুযোগ পায়, সেটা বিবেচনা করব।”
এর আগে আশরাফ উদ্দিন এলজিইডির প্রকল্পে স্থানীয় ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি তোলেন।
জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিপিএ ও পিপিআর অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে (এলটিএম) শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট জেলার ঠিকাদাররা অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) শর্ত পূরণ করলে দেশের যে কোনো ঠিকাদার অংশ নিতে পারেন। সর্বক্ষেত্রে পিপিআরের আইন ও বিধি অনুসরণ করা হয়।”
একই আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোর খেলার মাঠ এবং পার্ক দখলমুক্ত করার দাবি তোলেন।
তিনি বলেন, “ঢাকা শহরের খেলার মাঠ অনেকটা কাজীর গরু, খাতায় আছে, গোয়ালে নাই। বিভিন্ন মাঠে স্থাপনা, ক্লাব, বাজার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম গড়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানুষ মাঠ ও পার্ক ব্যবহার করতে পারছেন না।
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের সময়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনেক মাঠ ও খোলা জায়গা দখল করা হয়েছিল। আমরা সরকার গঠনের পরে সেই মাঠগুলো এবং খেলার জায়গাগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা করছি।”