Published : 27 Mar 2026, 10:02 PM
ঈদের কয়েকদিন খাবারে নানা পদের মাছ-মাংসই পেয়েছেন যাত্রাবাড়ীর শাহাদত হোসেন; এখন পাতে চাইছেন সবজির ব্যঞ্জন।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে আসা শাহাদত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সবজির জন্য মন আঁকুপাঁকু করতেছে। কয়েকটা দিন শুধু ডাল-সবজিই চালাব।”
ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরের কয়েকদিনও আত্মীয়-স্বজনের বাসায় দাওয়াতে কেটেছে শাহাদতের। তার কথায়, “দাওয়াতে গেলে তো না চাইলেও মাংস-পোলাও খেতেই হবে। আমার বাসায় যারা এসেছেন তাদেরও মাছ-মাংস দিয়ে আপ্যায়ন করেছি।”
ঈদের পর ঢাকায় মানুষের ফেরার সঙ্গে সঙ্গে কাঁচাবাজারগুলোতেও হাঁকডাক বেড়েছে। বাজারে উঠেছে তরতাজা সবজি।
ঈদের পর বাজারে সবজির চাহিদার কারণে সরবরাহ ও বিক্রি বাড়ার কথা বলছেন বিক্রেতারা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ঢাকার শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী ও সেগুন বাগিচা কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ঈদের দিন ছাড়া বাকি সব দিনেই সবজি নিয়ে বসেছেন শনির আখড়ার ব্যবসায়ী আবুল হাশেম। ঈদের দিন ও তার পরের কয়েকদিন বিক্রি একেবারে কমে যাওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ঢাকায় ঈদ করি। এখন গ্রামে কেউ থাকে না, তাই যাওয়া হয় না। প্রয়োজনে যাই। ঈদে বসে না থেকে দোকান খুলি। ঢাকায় তো মানুষ থাকে, তাদের জন্য আড়তও চালু থাকে।’’
ঈদের ছুটির পর বিক্রি বাড়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “কাস্টমারদের ফোনে ঈদের দিন বিকালে কিছু সময়ের জন্য খুলছিলাম। শসা, টমেটো আর পেঁয়াজ বিক্রি হয় বেশি সেদিন। আমার বেশিরভাগ কাস্টমার অফিস-আদালতে চাকরি করে। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার সময়ে সবজি নিয়ে যায়। আইজ (শুক্রবার) থাইক্কা বিক্রি বাড়ছে।’’
এদিন ঈদের আগের সপ্তাহের তুলনায় দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বাজারে পুরনো সবজির সঙ্গে নতুন উঠেছে সজনে ডাটা, ঢেঁড়শ, নতুন জাতের করলা ও পটল। এর মধ্যে সজনে ডাটা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়, ঢেঁড়শ ৮০ টাকা, ঝিঙা ও পটল ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সেগুন বাগিচা কাঁচাবাজারে আগের সপ্তাহের শুক্রবারের দরে গোল বেগুন ৫০ টাকা কেজি ও লম্বা বেগুন ৪০ টাকা বিক্রি করছেন মাসুদ হোসেন। বড় আকারের গোল বেগুন বিক্রি করেন ৮০ টাকা কেজি দরে।
যাত্রাবাড়ীতে শুক্রবার টমেটো ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি, গাজর ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি ও লেবু হালি ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
শনির আখড়ায় পেঁপে বিক্রি হয় ঈদের আগের দিন শুক্রবারের দর ৩০ টাকা কেজিতে। শিম বিক্রি হয় আগের ৫০-৬০ টাকা দরে। দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, আগের দরে বরবটি ১২০ টাকায় বিক্রি হয়।
এখন ২০ টাকা কমে করলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় সেগুন বাগিচায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি আলু ২০ টাকা ও কাঁচা মরিচ দাম ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এ বাজারে। ঝিঙা প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৮০ টাকায়।
ঈদের পর বাজারে মাছের সরবরাহও বেড়েছে। শুক্রবার সেগুন বাগিচায় পাবদা মাছ কেজি প্রতি ৩৫০ টাকা, পোয়া ও বাটা মাছ কেজি প্রতি ২০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ টাকা ও রুই মাছ বিক্রি হয় কেজি প্রতি ২৪০ টাকা থেকে ৩৬০ টাকায়।
যাত্রাবাড়ীতে পোয়া মাছ বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৩০০ টাকায়। চাষের তেলা পিয়া ১৩০ টাকা থেকে শুরু হয়ে আকার ভেদে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় এ বাজারে। ছোটো আকারের কাচকি মাছ কেজি বিক্রি হয় ২৫০ টাকায়।

কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম
ঈদের আগের দিন শুক্রবারের তুলনায় এ সপ্তাহের শুক্রবারে সেগুন বাগিচায় শুক্রবার ব্রয়লার মুরগির দামে কেজিতে ৪০ টাকা কমেছে। তবে আগের দরে বিক্রি হচ্ছে সোনালি জাতের মুরগি।
ঈদের সপ্তাহখানেক আগেই ঢাকার বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজি প্রতি ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ২৫০ টাকায়। ঈদের পরের শুক্রবার সেগুন বাগিচা কাঁচাবাজারে ব্রয়লার প্রতি কেজি ২১০ টাকায় বিক্রি হয়।
তবে সোনালি জাতের কক মুরগি বিক্রি হয় ৪০০ টাকা কেজিতে।
আর প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
ঈদের আগের দরে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। সেগুন বাগিচা ও যাত্রাবাড়ীতে শুক্রবার গরুর মাংস বিক্রি হয় ৮০০ টাকা কেজি দরে।