Published : 06 Apr 2026, 09:34 PM
পরপর তিন মাস আদায় না হওয়া ঋণকে খেলাপি দেখানোর প্রক্রিয়াকে ছয় মাসে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-ডিসিসিআই।
সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে এমন দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের এ সংগঠন।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
তাসকীন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে নেমে এসেছে; যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। নীতি সুদের হার ১০ শতাংশ থাকায় ঋণের সুদের হার প্রায় ১৬-১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এ কারণে ব্যাংক থেকে অর্থায়ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল ও অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
“নীতি সুদের হার ক্রমান্বয়ে কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং এসএমইর মত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকিযুক্ত ঋণসুবিধা চালু করা প্রয়োজন।’’
ঋণ ও আমানতের সুদ হারের মধ্যে ব্যবধান ৫ শতাংশের বেশি, যা ব্যাংকিং খাতে, বিশেষ করে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন তাসকীন আহমেদ।
তিনি বলেন, “ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা ৯ মাস থেকে ৩ মাসে নামিয়ে আনা, ব্যবসা পরিচালনায় উচ্চ ব্যয়, জ্বালানি সংকট এবং কম চাহিদার মত সমস্যা থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে।”
বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ‘অনিচ্ছাকৃত’ খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা পুনর্বিবেচনা করার পাশাপাশি ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা কমপক্ষে ৬ মাস পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানান তাসকীন আহমেদ।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, “বিগত বছরগুলোতে আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পণ্য, সেবা ও রপ্তানি বাজারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের কোনো বিকল্প নেই।
“বিশেষ করে দেশের সিএসএমই খাত ও কৃষি ব্যবস্থাপনার উপর অধিক হারে গুরুত্বারোপ করতে হবে, যার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।”
দেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতির হার উঁচু থাকার পেছনে লজিস্টিকস ও পণ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যয়ের উচ্চ হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন গভর্নর।
তিনি বলেন, “এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিরসনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় আমরা বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণসহ স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও পিছিয়ে রয়েছি।
“এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক নীতিমালা সংস্কারের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাসের কোনো বিকল্প নেই।”
ডিসিসিআইর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।