১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এলপিজি আমদানিতে একক গ্রাহকের ঋণসীমা শিথিল

সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে একের পর এক নীতিগত ছাড় ও সুবিধা আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ঘোষণা এল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Mar 2026, 03:50 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:14 PM

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিতে একক ঋণগ্রহীতার সীমা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জ্বালানি পণ্যটির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে  এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।  

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঋণসীমার ২৫ শতাংশ শর্ত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে যে ২৫ শতাংশ ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে, তা আপাতত বহাল থাকবে না। এর বদলে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা কত হবে, তা বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদাভাবে নির্ধারণ করবে।

সরকার এমন সময়ে এ সিদ্ধান্ত নিল, যখন এলপিজি সরবরাহ ঘিরে টানাপড়েন সামাল দিতে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো একের পর এক নীতিগত ছাড় ও সুবিধা দিয়ে আসছে।

জানুয়ারিতে সরবরাহ সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে বাকিতে এলপিজি আমদানির সুযোগ দেয়। 

তখন বলা হয়েছিল, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট, বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে এলপিজি আমদানি করা যাবে। এজন্য এলপিজিকে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন । 

সেসময় সরবরাহ সংকটের কারণে এক মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অস্থিরতা চলছিল, আকারভেদে দাম ৩৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। 

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পরে সরকার শুল্ক-ভ্যাটেও ছাড় দেয়। ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। 

তারপরও বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর বিইআরসি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করলেও সে দামে কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল না। 

এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন চাপ তৈরি করেছে। দেশে বছরে ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন এলপিজির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ, বিশেষ করে কাতার, কুয়েত ও ওমান থেকে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে চাপ বাড়ার আশঙ্কার কথা তখনই খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন। 

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এলপিজির কয়েকটি বড় চালান বাংলাদেশের পথে ছিল এবং চট্টগ্রাম, মোংলা ও সীতাকুণ্ডমুখী আরও কয়েকটি ট্যাংকারে প্রায় ১০ হাজার টন এলপিজি ছিল। তবে এপ্রিলের পরিস্থিতি নির্ভর করবে যুদ্ধ, জাহাজ চলাচল, বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ এবং ব্যাংকিং সহায়তার ওপর। 

সেই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপনকে এলপিজি আমদানির অর্থায়নে আরেক দফা নীতিগত শিথিলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, এই সুবিধা শুধু এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে একক ঋণগ্রহীতা সীমা ছাড়ানোর সুযোগ থাকছে না।