Published : 31 Mar 2026, 12:43 AM
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষায়িত ‘অরেঞ্জ বন্ড’ নীতিমালা হওয়ার পর প্রথমবার অনুমোদন পেল বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান সাজেদা ফাউন্ডেশনের বন্ড।
এই বন্ড বাজারে ছেড়ে বিনিয়োগাকরীদের কাছ থেকে ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা তোলার অনুমোদন পেয়েছে সাজেদা ফাউন্ডেশন।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সোমবার কমিশন সভায় এ অনুমোদন হয়।
এক থেকে ৩ বছর মেয়াদী এ বন্ড রূপান্তরযোগ্য নয়। শতভাগ নগদায়নযোগ্য এ বন্ড অরক্ষিত ও অরেঞ্জ জিরো কুপন বন্ড।
প্রতি ইউনিটের মূল্য হিসেবে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকা দিয়ে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারী এ বন্ড কিনতে পারবেন।
সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার পরিকল্পনা জানিয়েছে সাজেদা ফাইন্ডেশন।
নারীদের জন্য অনুমোদন দেওয়া বন্ডের কুপন রেট নির্ধারণ করা হয় ৭ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা অন্যান্য বন্ডের চেয়ে তুলনামূলক কম।
বন্ডের অর্থ শুধু নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্তি এবং নারীর ক্ষমতায়নে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সাধারণ বন্ডের চেয়ে কম সুদে বিনিয়োকারী পাওয়া যাবে কি না–এ প্রশ্নে বন্ডটির আয়োজক ইবিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ রাশেদ হুসেইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটি বিশেষ বন্ড, দেশের প্রথম অরেঞ্জ বন্ড। অনেকেই সুদের পাশাপাশি সেবা ও চ্যারিটি কাজে বিনিয়োগ করেন। এখানে সেই সুযোগটি আছে। আমাদের অনেক ধরনের বিনিয়োগকারী আছে, দরকার শুধু বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ উকরণ।
“নারীর ক্ষমতায়নে আমরা এই বন্ডে ইউএনডিপির সহযোগিতা পাব। তাদের নীতিমালার আলোকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের লক্ষ্যমত্রার সঙ্গে মিল রেখে বিনিয়োগ নীতিমালাটি করা হয়েছে। সিঙ্গপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে এই অরেঞ্জ বন্ড।”
বিএসইসি জানিয়েছে, বন্ডটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পরিপালন করবে বলে ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে মতামত দিয়েছে।
বন্ডটি পুঁজিবাজারের ‘অল্টারনেটিভ ট্রেডিং’ বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে। এ বন্ডের ট্রাস্টি করা হয়েছে ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসিকে।