Published : 09 Apr 2026, 11:28 PM
মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টদের মত সবখানে আরও বেশি সংখ্যক জনবল যুক্ত করে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতা বাড়াতে চায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এজন্য এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা আরও সহজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোর তরফে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রস্তাব দিয়েছে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)।
বৈঠকে ব্যাংক খাতের আধুনিকায়নে পুরনো অনেক নীতিমালা হালনাগাদ করার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) সেবা দিতে অনুমোদিত এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো দেশজুড়ে চাহিদা অনুযায়ী এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারে। সেখানে দূরত্ব বা একই এলাকায় কতজন এজেন্ট হতে পারবে সেটির কোনো সীমা নেই।
ব্যাংকগুলো এখনও এজেন্ট ব্যাংকিং করতে পারে। যেসব স্থানে ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে সীমিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে পারে ব্যাংকগুলো। তবে এজেন্ট অনুমোদন করতে পরিচালনা পর্ষদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
অপরদিকে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারে।
এ বিষয়ে নীতিমালা হালনাগাদ করে এবিবির পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়, কাগুজের নোটের ব্যবহার কমিয়ে আনা, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের খরচ সাশ্রয় ও সারাদেশে নেটওয়ার্ক স্থাপনে এমএফএস এজেন্টের মত এজেন্ট ব্যাংকিয়ের এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার।
বুথের বদলে অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা ও পাঠানোর মত এজেন্ট ব্যাংকিংও চেয়েছে তারা। এ ক্ষেত্রে কোনো অবকাঠামো থাকবে না। ব্যাংকের পক্ষে এজেন্ট নিয়োগ করা হবে এমএফএসের মত।
এজেন্টের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন করে ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দেওয়া যাবে। একইভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী এজেন্টের কাছ থেকে উত্তোলন করা যাবে ব্যাংক হিসাবের অর্থ। এজেন্ট সেখানে কমিশন সুবিধা পাবেন।
এবিবি চেয়ারম্যান ও বেসরকারি সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘নিয়মিত কিছু বিষয় ছিল, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এমএফএস সেবার মত দ্রুত সেবা দেওয়ার সময় হয়েছে।
“এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই ইচ্ছে মত এজেন্ট দিতে পারছে। বর্তমান নীতিমালায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সেটা সম্ভব না। এতে খরচও বেশি। আমাদের তো ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়াতে হবে। সামনে বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এ জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালার সহজীকরণ চেয়েছি।”
আগামী জুলাই থেকে সব ধরনের লেনদেনে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আসছে। কাগুজে টাকার ব্যবহার কমানো ও দ্রুত সময়ের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার।
সেই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা সহজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ব্যাংকারদের তরফে।
এছাড়া গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকারদের সভায় বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। সেখানে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া হয় ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, “ব্যাংকিং খাতে যথেষ্ঠ ডলার আছে। যুদ্ধেও বিরতি হয়েছে, বৈদেশিক পেমেন্টের সেরকম চাপও নেই। তারপরও কেউ কেউ বাড়তি দরে ডলার কেনার চেষ্টা করছে। ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত দরে ডলার কেনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
“পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে এমন গুজব ধরে নিয়ে আগাম ডলার কেনার চেষ্টা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করবে। বিষয়টি ব্যাংকগুলোকে জানানো হয়েছে। ব্যাংকাররা আশ্বস্ত করেছেন, নিয়ম মেনে ডলার লেনদেন করবেন। হস্তক্ষেপ করার মত পরিস্থিতি হবে না।”
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার মাঝে মধ্যে অস্থিতিশীল হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এদিনের সভায়।
ইরান যুদ্ধের মধ্যে চলতি সপ্তাহে কিছু ব্যাংক বাজারদরের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে প্রবাসীদের কাছ থেকে রেমিটেন্স আনা শুরু করে। তাতে বিদ্যমান বিনিময় হার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় চলে যায়।
কয়েকটি ব্যাংক প্রবাসী আয় এনেছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দিয়ে। এমন অভিযোগ পেয়ে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন গভীরভাবে নজরদারি শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিনের সভায় ব্যক্তিগত ঋণ সুবিধা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা, গাড়িতে বিনিয়োগের সীমা হালনাগাদ করে ৯০ শতাংশ মার্জিন করার প্রস্তাব করে এবিবি।
এছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ সুদহার বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়া ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালার অব্যাহত রাখার পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরে সংগঠনটি।