ইরান যুদ্ধ: বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই
শুধু ঢাকা থেকেই এ পর্যন্ত ৭৭৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শুধু ঢাকা থেকেই এখন পর্যন্ত ৭৭৫ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এর বাইরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে মঙ্গলবার পর্যন্ত বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৯টি।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনের বিভিন্ন রুটে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেশিরভাগ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের বিভিন্ন রুটে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে যৌথ হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে। সঙ্গে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকেও হত্যা করা হয়।
এরপর ইরান পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় দেশটি; যা এখনো অব্যাহত আছে।
পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই বিভিন্ন দেশ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট বাতিল করা শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিমানবন্দর কার্যক্রম ও আকাশসীমাও বন্ধ রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ৩২টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২, ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৬টি, ১৫ মার্চ ২৩টি, ১৬ মার্চ ৩১টি, ১৭ মার্চ ৩১টি, ১৮ মার্চ ২৬টি, ১৯ মার্চ ২৬টি, ২০ মার্চ ২৮টি, ২১ মার্চ ২৫টি, ২২ মার্চ ২০টি, ২৩ মার্চ ২০টি, ২৪ মার্চ ২০টি, ২৫ মার্চ ২০টি ও ২৬ মার্চের (পরিকল্পিত) ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন রুটের ফ্লাইট কার্যত বন্ধই আছে। এতে বাংলাদেশের প্রবাসীরা যেমন অসুবিধায় পড়েছেন, তেমনি এয়ারলাইন্সগুলোকেও বিপুল অঙ্কের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট চালাতে না পারলেও সব ধরনের চার্জ দিয়েই এয়ারক্রাফটগুলোকে বিমানবন্দরে রাখতে হচ্ছে। এই অবস্থার উন্নতি না হলে শিগগিরই এয়ারলাইন্সগুলো বিরাট চাপে পড়বে।”
