Published : 16 Mar 2026, 04:13 PM
ব্যবসায়ে লাভ না হলেও বিক্রির ওপর যে ন্যূনতম কর নেওয়া হচ্ছে তা আয়কর আইনের সঙ্গে ‘কোনোভাবেই যায় না’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআর সদস্য (কর নীতি) মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, “আমাদের এই মুহূর্তে কর আদায়ের যে পদ্ধতিটি আছে, বিশেষ করে ন্যূনতম করের যে ধারণাটি আছে, আমি নিজেও মনে করি, ‘ইট ডাজন্ট গো উইথ দ্য ফিলোসফি অব প্রগ্রেসিভ ট্যাক্স’।
“বিশেষ করে আয়কর আইনের সাথে কোনোভাবেই এটি যায় না।”
‘বাংলাদেশের আধুনিক রিটেইল খাতের উন্নয়ন: প্রতিবন্ধকতা, উত্তরণের উপায় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা’ শীর্ষক এ আলোচনায় এই খাতে নূন্যতম কর ১ শতাংশ থাকায় প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হচ্ছে না বলে ব্যবসায়ীদের তরফে তুলে ধরা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর সদস্য (কর নীতি) মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেছেন, আধুনিক আয়কর নীতির সঙ্গে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ একটি আইন তৈরি করাটা এনবিআর বা সরকারের জন্য কখনো খুব আনন্দের বিষয় ছিল না।
তার মতে, দেশের অনানুষ্ঠানিক খাত বড় হওয়ায় এবং সেখান থেকে রাজস্ব আদায় কঠিন হওয়ায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার অর্থ অধ্যাদেশে ন্যূনতম করের হার দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করে দেয়।
আধুনিক খুচরা বাজার বা সুপারশপ খাত পুরোপুরি আনুষ্ঠানিক ও ডিজিটালাইজড হওয়ায় এখানে নূন্যতম কর ‘যৌক্তিকিকরণ’ করার ভাবনার কথা তুলে ধরে এনবিআরের এই কর্মকর্তা।
এ খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরামর্শক কোম্পানি এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “সুপারশপ খাতের মতো সংকুচিত মুনাফার ব্যবসায় কর-পূর্ব আয়ের প্রান্তিক সীমা যেখানে ১ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে ১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স (বিক্রির ওপর নূন্যতম কর, মুনাফা না হলেও) মূলত এই শিল্পের প্রকৃত মুনাফার ওপর একটি বড় আঘাত।”
বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের এ নীতি মোট আয়ের প্রায় ৬৮ শতাংশই নিঃশেষ করে দেয়। ফলে এই শিল্পে খাতে পুনঃবিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
নীতি সহায়তা না থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুপারশপ ‘স্বপ্ন’ এর এমডি সাব্বির নাসির বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ৬৪ জেলায় গিয়েছি, কিন্তু আবার ৬২ জেলা থেকে ফিরে এসেছি। এই যে যাই, আবার একটু ফিরে আসি, এটার পেছনের কারণটা হচ্ছে নীতি সহায়তা যদি একটু পেতাম তাহলে ৬৪ জেলা ছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে যেতাম।
“৮৫০টা স্টোর ধরেন উপজেলা ছাড়া হবে না। কিন্তু আমরা অনেকগুলো সমস্যার মুখে পড়েছি।”
সুপারশপ পণ্যে বাড়তি ভ্যাট থাকায় বিদেশি বিনিয়োগও টানতে পারছিলেন না বলেও তুলে ধরেন তিনি।
ভারতে সুপারশপ সংস্কৃতি বাংলাদেশের পরে হলেও এখন তারা অনেক এগিয়ে গেছে তুলে ধরে বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বলেন, “অনেক দেশে সুপার মার্কেট সংস্কৃতি উন্নত অর্থনীতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সরকারি নীতিগত সহায়তার অভাবে বাংলাদেশে এই খাত প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি।”
নূন্যতম কর কমানোর দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ট্যাক্স কমানো হলে সুপার মার্কেটের সম্প্রসারণ বাড়বে এবং এতে সরকারের বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।”
২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুপারশপ খাতে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহের সময় সরবরাহের বিপরীতে উৎসে কর ও উৎসে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৪০ কোটি টাকার মতো; নূন্যতম করের মাধ্যমে আদায় হয়েছে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা।