Published : 16 Mar 2026, 01:04 AM
ঈদ সামনে রেখে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে নতুন টাকার নোট ছাড়া বন্ধ থাকায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে দাম চড়েছে নতুন নোটের। উৎসবের শখ মেটাতে অনেকে চড়া দামেই কিনছেন। আর যাদের বাজেটে টান পড়েছে তারা হচ্ছেন নিরাশ।
ঈদের ছুটি যত এগিয়ে আসছে রাজধানীতে নতুন নোট পাওয়ার একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠা ফুটপাতের টাকা বদলে দেওয়ার ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে দাম ততই চড়ছে। প্রতি বান্ডিল নোটে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, নতুন নোটের ১০ টাকার একটি বান্ডিলের (১০০টি) এক হাজার টাকার বিনিময় মূল্য গিয়ে ঠেকেছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। এ হিসাবে ৪০ শতাংশ বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে ক্রেতাকে। প্রতি ১০ টাকার বিনিময় মূল্য দাঁড়াচ্ছে ১৪ টাকা।
একইভাবে ২০ টাকার বান্ডিলের (দুই হাজার টাকা) জন্য অতিরিক্ত ৫০০ টাকা, ৫০ টাকার বান্ডিলে (৫ হাজার টাকা) গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা। আর ১০০ টাকার বান্ডিল (১০ হাজার টাকা) নিলে বাড়তি দিতে হচ্ছে ৩০০ টাকা।

আগেরবার ঈদেও ব্যাংকে টাকা না পাওয়ায় ফুটপাতে এক হাজার টাকার নতুন নোট সংগ্রহ করতে বাড়তি গুনতে হয় ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
মতিঝিলের ফুটপাতের দোকানগুলোতে সাধারণত ১০ বা ২০ টাকার বান্ডিল ভেঙে নতুন টাকা বিনিময় করেন না বিক্রেতারা। ৫০ ও ১০০ টাকা মানের নোট বান্ডিল ভেঙে বিনিময় করেন।
নতুন নোটের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এবার সব মূল্যমানের নোট বান্ডিল ভেঙে দিচ্ছেন তারা।
বাংলাদেশে অনুমোদিত মুদ্রা বিনিময় করতে অতিরিক্ত কোনো ফি, চার্জ বা অর্থ নেওয়া আইনত দণ্ডনীয়। তবে মতিঝিল ও গুলিস্তানের ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থানে বছরজুড়েই নতুন টাকার কেনাবেচা চলে বছরজুড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রতিবার ঈদের সময় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার পুরনো নোট বদলে নতুন নোট দেওয়া হত ব্যাংকগুলোতে। ঘোষণা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি বাণিজ্যক ব্যাংকের বেশ কিছু শাখা থেকে নতুন নোট বিতরণ করা হত।

২০২৪ সালে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৮৪টি শাখার মাধ্যমে নতুন নোট বিনিময়ের তালিকা প্রকাশ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার তার দায়িত্বকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাউন্টার থেকে নতুন নোট দেওয়া বন্ধ করে দেন। পরে আহসান এইচ মনসুর গভর্নর হলে ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নোট বিতরণের কার্যক্রম বাতিল করা হয়।
ঈদে সবার জন্য নতুন নোট ছাড়া বন্ধ করা হলেও নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সাড়ে ১৮ হাজার থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ ৮৩ হাজার টাকার নতুন নোট দেওয়ার ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণ সার্কুলার দিয়ে করে রেখেছে।
তবে ব্যাংকে পাওয়া না গেলেও রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিলের ফুটপাতে নতুন নোট মিলছে। সাধারণত ১০ ও ২০ মূল্যমানের নোটের চাহিদা বেশি থাকে। এবার ফুটপাতে এসব নোটের সরবরাহও কম দেখা যায়।

ব্যাংকে টাকা না পেয়ে মতিঝিলে নতুন নোট বদলে নিতে আসা নাজমুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখানে এসেতো মাথায় হাত- ১ হাজার নিতে দিতে হবে ১৪০০ টাকা।
‘‘ভাবা যায় এক হাজার টাকার মধ্যে ৪০০ টাকাই নাই হয়ে গেল। এখন ভাবছি নতুন টাকা নিব না। বাচ্চাদের জন্য বান্ডিল ভেঙে কয়েক পিস নেব। সেখানেও একই রেট, ৪০ শতাংশ বেশি দিতে হবে।’’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ছাড়াও সদরঘাট, মিরপুর, ফার্মগেট, রায়সাহেব বাজার এলাকায় নতুন নোটের ব্যবসা চলে বছরজুড়েই।
ঈদের ছুটি পেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে গুলিস্তানে এসেছেন বরিশালগামী ফেরদৌস খান। বাড়ির জন্য প্রতিবছরই নতুন নোট নিয়ে যান।
এবারও দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ার তথ্য দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘বাচ্চা পোলাপানদের জন্য নিয়ে যাই। নতুন নোট কম দিলেও চালিয়ে নেওয়া যায়। তারাও খুশি থাকে।
“এবার এক বান্ডিলে ৪০০ টাকা বেশি দিতে পারব না। এমনিতেই ইনকাম কমে গেছে। এখন ২০ টাকার ১০ পিস নিয়ে যাব, অন্তত বলতে পারব আনছি।’’
২০ টাকা মানের নতুন ২০০ টাকা নিতে ফেরদৌসকে গুনতে হয় অতিরিক্ত ৮০ টাকা।