Published : 22 Jun 2026, 12:55 AM
রাজস্ব আহরণের ঘাটতি বাড়তে থাকায় শেষ হতে যাওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আদায় করতে হবে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাটি চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে সময়ে রাজস্ব আহরণ করেছে ৩ লাখ ৬০ হজার ৬৪২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি।
অর্থাৎ এ সময়ে এনবিআর গড়ে প্রতি মাসে আদায় করেছে ৩২ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা করে।
আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।
রোববার এনবিআরের দেওয়া হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ হিসাবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।
সংশোধিত বাজেট এনবিআরের মাধ্যমে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেটে যা ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজস্ব আহরণের ধারা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক মাসে এত বিপুল রাজস্ব আদায় কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যে কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা থেকে এবারও অনেক দূরে অর্থবছর শেষ করবে এনবিআর।
সাধারণত রাজস্ব আহরণে ১৫ শতাংশের আশপাশে প্রবৃদ্ধি হলেও জুলাই-মে ১১ মাসে এ হার ছিল ১০ শতাংশ।
এনবিআরও লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে চলতি অর্থবছর শেষ করার শঙ্কার কথা আগেই বলেছে।
কর আদায়কারী সংস্থাটির আশা, জুন মাসের প্রথম ২০ দিনে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় এবং শেষ ১০ দিনে আরো ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় সম্ভব হতে পারে।
এতে করে চলতি অর্থবছরে ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা 'সম্ভব হবে' বলে প্রাক্কলন করছে এনবিআর।
সেক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৮৮ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে থাকবে এনবিআর। তবে তা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৩ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বেশি হতে পারে।
রাজস্ব আদায়ে ধীর গতির কারণ হিসেবে এনবিআরের কর্মকর্তা ও অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে শুরু হওয়া অর্থনীতির স্থবিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ধীর গতি দেখা দেয়। বিনিয়োগের আগের খরাও কাটেনি। এসব কারণে রাজস্ব আদায়ে তৈরি হওয়া ধীর গতি চলতি অর্থবছরের প্রায় পুরোটা সময় অব্যাহত ছিল। নতুন সরকার আসার পর তা কাটার সম্ভাবনা তৈরির কথা থাকলেও ইরান যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এর প্রভাব দেখা যায় রাজস্ব আহরণেও।
ইরান যুদ্ধের কারণে আবার নতুন করে শুরু হওয়া অনিশ্চয়তায় এপ্রিলেও প্রবৃদ্ধি খুব বেশি বাড়েনি। প্রবৃদ্ধির হার একক অঙ্কেই সীমাবদ্ধ ছিল; আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
মে মাসের আলাদা করে পরিসংখ্যান এখনও এনবিআর প্রকাশ না করায় এ মাসের প্রবৃদ্ধির হার মেলেনি।
সবশেষ রাজস্ব আহরণের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলেছে, রাজস্ব আদায়ের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য ইতোমধ্যে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস অনুবিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
টাস্কফোর্সগুলো আপিল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাসহ কর আদায় বাড়াতে নানামুখী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
একই সঙ্গে কর ফাঁকি উদঘাটন রাজস্ব পুনরুদ্ধার, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নির্বাচিত অডিট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করাসহ আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা বলেছে এনবিআর।