Published : 11 Jun 2026, 07:47 PM
পর্যটনকে উৎসাহিত করতে এ খাতকে সৃজনশীল অর্থনীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা প্রস্তাবিত বাজেটে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এজন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘সৃজনশীল অর্থনীতিতে’ জোর দিয়েছেন তিনি। এ খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন তিনি। এ বরাদ্দ থেকে পর্যটন খাতও চাইলে অর্থপাবে।
এছাড়া সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেট প্রস্তাবে একই সঙ্গে তিনি আগামী অর্থবছরে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।
এতে এ খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

এভিয়েশন
>> ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে উন্নীত করার উদ্যোগ।
>> জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলা।
>> ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিকস ও যাত্রী হাবে উন্নীতকরণ।
>> কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর ব্মিানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলা।
>> হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল শীঘ্রই চালুর প্রস্তুতি।
>> বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি যাত্রীসেবা ও কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন।
পর্যটন খাত
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা পর্যটন খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে ইকোট্যুরিজম উন্নয়নে বিশেষ নজর দিচ্ছি।“
এ লক্ষ্যে সরকার যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করছে, তা তুলে ধরেন তিনি।
>> পর্যটন খাতের পেশাজীবীদের বিশ্বমানের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।
>> রন্ধনশিল্পসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষণকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে ‘ইন্টারন্যশনাল হসপিটালিটি বেঞ্চমার্ক’ নির্ধারণ করা হবে।
>> পর্যটন খাতের প্রশিক্ষনার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত সংস্থা কর্তৃক আন্তর্জাতিক মানদন্ডের ভিত্তিতে সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
>> পর্যটন খাতের সামগ্রিক সম্ভাবনা, বৈচিত্র্য এবং আধুনিক ক্রিয়েটিভ থিমগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সময়োপযোগী ও সমন্বিত ‘পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ দ্রুত চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
>> আন্তর্জাতিক উৎসব ও বাজারে ক্রিয়েটিভ সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ নামে জাতীয় ব্র্যান্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
>> থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-কে ব্যাপকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে।
>> চলচ্চিত্রের উন্নয়ন এবং ওটিটি প্লাটফর্মে অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি মানসম্পন্ন স্টুডিও গড়ে তোলা হবে।
>> জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা;
>> বৃহৎ পর্যটন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ খাতে পর্যটক আকর্ষণ ও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে।