০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য অ্যামচ্যামের

এবারের ট্রেড শোতে থাকছে ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও সাতটি স্টার্টআপ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 02:35 PM

Updated : 02 Nov 2026, 02:36 PM

বাংলাদেশে আগামী সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম)।

সংগঠনটির নেতারা বলছেন, আসন্ন ৩০তম ইউএস ট্রেড শো এ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

ঢাকায় সোমবার ট্রেড শোর প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, “পাঁচ বিলিয়ন ডলার সবই অর্জিত হয়ে যাবে—এমন দাবি আমরা করছি না। তবে এই ট্রেড শো সেটিকে সহজ করবে।”

আগামী ৫ থেকে ৭ নভেম্বর ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সহযোগিতায় এ প্রদর্শনী হবে। প্রায় আড়াই বছর বিরতির পর এবার আবার এ আয়োজন ফিরছে।

মোহাম্মদ কামাল বলেন, ১১ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে তারা জানিয়েছিলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। আগামী সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার আনার পথ নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।

অ্যামচ্যাম সভাপতি বলেন, এর চেয়েও বেশি বিনিয়োগ আনার সুযোগ আছে।

“আমরা বুঝেশুনেই সংখ্যাগুলো বলছি। এই বোর্ড (বর্তমান কমিটি) না পারলে পরের বোর্ড এটি এগিয়ে নেবে।”

বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে জ্বালানি নিরাপত্তাই সবচেয়ে নির্ধারক মন্তব্য করে কামাল বলেন, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে অ্যামচ্যাম।

সরকারের কাছ থেকে শিগগিরই একটি জ্বালানি রোডম্যাপ আশা করছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, জ্বালানির ওপর ট্রেড শোতে আলাদা সেমিনারও থাকছে।

বিনিয়োগের জন্য সব খাতের পেছনে না ছুটে, যেসব খাতে মার্কিন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ব্যবহার বেশি এবং বাংলাদেশে মূল্য সংযোজনের সুযোগ আছে, সেসব ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ ঠিক করা হয়েছে বলে জানান অ্যামচ্যাম সভাপতি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবার অন্য দেশের আমেরিকান চেম্বারগুলোকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকটি দেশের চেম্বারের নেতৃত্ব বা প্রতিনিধিদল অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাদের সঙ্গে এমন কয়েকজন বিনিয়োগকারীও থাকবেন, যাদের এখনো বাংলাদেশে কার্যক্রম নেই।

অ্যামচ্যামের সভাপতি কামালের ভাষ্য, “আজ যদি ১০-১২টি নতুন কোম্পানিকে বাংলাদেশে এনে বিনিয়োগ করাতে পারি, সেটাই হবে এ আয়োজনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”

কোম্পানি ও প্রদর্শনী

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও সাতটি স্টার্টআপ থাকবে। বুথ থাকবে ৬৩টি।

অংশগ্রহণকারী বা প্রতিনিধিত্বকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকছে—ক্যাটারপিলার, শেভরন, এক্সন মবিল, মেটলাইফ, সিটি গ্রুপ, মাস্টারকার্ড, ভিসা, কোলগেট-পামোলিভ, ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল, পেপসিকো, কস্টকো হোলসেল ক্লাব, পিপিজি, ইউপিএস ও কারগিল।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আইসিটি ও ডিজিটাল অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা, এফএমসিজি, উৎপাদন ও লজিস্টিকস, শিক্ষা এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসার জন্য আলাদা জোন থাকবে। এ ছাড়া থাকছে স্টার্টআপ জোন, ক্রেতাদের সরাসরি কেনাকাটার জন্য কার্নিভাল জোন এবং ট্রেড শোর ইতিহাস তুলে ধরার হেরিটেজ কর্নার।

ছয়টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনারের মধ্যে থাকছে—বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, আইসিটি ও ডিজিটাল অর্থনীতি, নারী নেতৃত্ব, সিলেক্ট ইউএসএর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক।

অ্যামচ্যামের নেতারা জানান, প্রতিটি সেমিনারে বাজারের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের প্যানেলিস্ট রাখা হয়েছে এবং একটি বাদে সব সেশনে সরকারের প্রতিনিধি থাকবেন।

প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

অ্যামচ্যামের নেতারা বলেন, বাংলাদেশে ট্রেড শোর সংস্কৃতি অ্যামচ্যামই শুরু করেছে। ১৯৯২ সালে শুরু হওয়া এ আয়োজন মাঝে কয়েক বছর বন্ধ ছিল। এ বছর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তিও উদযাপন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাণিজ্য বিভাগের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল জি ফ্রস্ট উপস্থিত ছিলেন।